Image description

সুনামগঞ্জের হাওরে হাওরে এখন কৃষকের আহাজারি। যে জনপদ দেশের খাদ্য ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে, অকাল জলাবদ্ধতায় সেই জনপদের কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। চৈত্রের অতিবৃষ্টিতে ধান পাকার আগেই তলিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার হেক্টর বোরো জমি। ফসল রক্ষায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাম্প বসিয়ে পানি সেচ দিলেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাওরপাড়ের মানুষ।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১২টি উপজেলার ১৩৭টি ছোট-বড় হাওরে এ বছর ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। যেখান থেকে প্রায় ১২ লাখ ৩৩ হাজার ৫১৭ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।

কৃষি বিভাগ বলছে, জলাবদ্ধতায় ৩ হাজার ১২৮ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতাদের দাবি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি। তাদের মতে, জেলায় অন্তত ২৫ থেকে ৩০ হাজার হেক্টর জমির ধান ইতিমধ্যে জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধ্যনগর, বিশ্বম্ভরপুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন হাওরে পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রায় চার শতাধিক পাম্প বসানো হয়েছে। জামালগঞ্জের পাগনার হাওর ও হালির হাওরে কৃষকরা নিজেদের চাঁদার টাকায় পাম্প চালিয়ে পানি সরানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। তবে ডিজেলের অভাবে অনেক জায়গায় পাম্প চালানো ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে পানি সরানো নিয়ে সদর উপজেলার ডাকুয়ার হাওরে বাঁধ কাটা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

ধর্মপাশার জয়শ্রী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য জানান, চন্দ্র সোনার থাল হাওরে তার প্রায় সাড়ে ৯ কেদার জমি পানির নিচে। কয়েক দিনের মধ্যে পানি না কমলে তিনি নিঃস্ব হয়ে যাবেন। একই অবস্থা জামালগঞ্জের হাজারো কৃষকের। হালির হাওরের কৃষক জানকী চৌধুরী জানান, কৃষকরা ৩ লাখ টাকা চাঁদা তুলে ৪০টি পাম্প দিয়ে পানি সরানোর চেষ্টা করছেন।

সুনামগঞ্জ হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন বলেন, "আমরা ১২টি উপজেলা ঘুরে দেখেছি কৃষি বিভাগের তথ্য ভুল। অন্তত ৩০ হাজার হেক্টর জমি আক্রান্ত। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান ও কৃষি ঋণ মওকুফের দাবি জানাই।" পাউবো’র গাফিলতির প্রতিবাদে আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) সুনামগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্টে গণসমাবেশের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-১ মো. মামুন হাওলাদার জানান, এ বছর মার্চ মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হওয়ায় নিচু জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। বড় হাওরগুলোর পানি নিষ্কাশনের জন্য রেগুলেটর কাজ করছে। তবে কৃষকরা অনেক জায়গায় বাঁধ কেটে দেওয়ায় পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমিদ ফারুক জানান, অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য নিরূপণের চেষ্টা করছি। স্থানীয় প্রশাসন ও পাউবো পানি নিষ্কাশনে কাজ করছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর