Image description

হবিগঞ্জের মাধবপুরে বৃত্তি পরীক্ষা কেন্দ্রকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার হলে খোদ শিক্ষকরাই (গার্ড) শিক্ষার্থীদের উত্তর লিখে দিচ্ছেন—এমন অভিযোগের পাশাপাশি সাংবাদিকদের প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ভূমিকা নিয়ে এলাকায় তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) উপজেলার নোয়াপাড়ায় অবস্থিত সৈয়দ সঈদ উদ্দীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের অভিযোগ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ বিন কাসেমের অলিখিত নির্দেশনার কারণে সাংবাদিকদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, যা দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “ইউএনও স্যার আমাকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন যে, কোনো সাংবাদিক কেন্দ্রে প্রবেশ করতে চাইলে তাকে আগে লিখিত আবেদন করে অনুমতি নিতে হবে। এমনকি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্ড নেওয়ার মতো প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।”

অভিযোগ রয়েছে, কেন্দ্রে দায়িত্বরত কয়েকজন শিক্ষক অনৈতিক সুবিধা নিয়ে শিক্ষার্থীদের খাতায় উত্তর লিখে দিচ্ছেন কিংবা বানানসহ উত্তর বলে দিচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষকরাই যদি উত্তর লিখে দেন, তবে এটি কি পরীক্ষা নাকি বাণিজ্য? এভাবে মেধা যাচাই সম্ভব নয়।”

এদিকে, পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারির দোহাই দিয়ে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. সরফরাজ ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তিনি জানান, সাংবাদিকরা ১৪৪ ধারার আওতাভুক্ত নন। তারা কেন্দ্র সচিবের সঙ্গে সমন্বয় করে পেশাগত প্রয়োজনে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।

বিষয়টি নিয়ে বক্তব্যের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাসেমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। গণমাধ্যমকর্মীদের দূরে রেখে পরীক্ষার স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ করায় স্থানীয় সচেতন মহল উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর