ঘোড়াঘাটে বৃদ্ধাকে হাত-পা বেঁধে হত্যা, স্বর্ণালঙ্কার লুট
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে বাড়িতে একা পেয়ে ওয়ালেদা খাতুন (৭৫) নামে এক বৃদ্ধাকে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার পালশা ইউনিয়নের পূর্ব পালশা গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘর থেকে প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ২ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে বলে নিহতের পরিবার দাবি করেছে।
নিহত ওয়ালেদা খাতুন ওই গ্রামের মৃত হবিবুর রহমানের স্ত্রী। তিনি তার ছোট মেয়ে রহিমা বেগমের সঙ্গে নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত বৃদ্ধার পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। ছেলেরা সবাই আলাদা বাড়িতে থাকেন। ছোট মেয়ে রহিমা বেগম প্রবাস থেকে ফিরে মায়ের সঙ্গে থাকতেন এবং স্থানীয় ডুগডুগি বাজারে কাপড়ের ব্যবসা করতেন। মঙ্গলবার বিকেলে রহিমা দোকানে থাকাকালীন কে বা কারা ঘরে ঢুকে বৃদ্ধা ওয়ালেদা খাতুনের মুখ ও হাত-পা কসটেপ দিয়ে বেঁধে ফেলে। পরে তাকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে আলমারিতে থাকা টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায়।
বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে রহিমা বেগম দোকান থেকে বাড়ি ফিরে দেখেন, তার মায়ের দেহ কাপড় দিয়ে ঢাকা অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছে। কাপড় সরাতেই দেখা যায়—তার মুখ কসটেপ দিয়ে আটকানো, হাত-পা বাঁধা এবং গলায় গামছা পেঁচানো। রহিমার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ঘর ও আলমারির আসবাবপত্র তছনছ অবস্থায় দেখতে পায়।
নিহতের মেয়ে রহিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, দুর্বৃত্তরা তার মাকে নির্মমভাবে হত্যা করে ঘর থেকে প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ২ লাখ টাকা নিয়ে গেছে।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, "খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments