Image description

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নে তিস্তার শাখা নদী বুড়াইল নালার ওপর একটি ব্রিজের জন্য দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে অপেক্ষা করছেন হাজারো মানুষ। স্বাধীনতার পর অনেক সরকার পরিবর্তন হলেও চরের মানুষের ভাগ্য বদলায়নি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো ও নৌকা দিয়েই চলছে তাদের নিত্যদিনের পারাপার।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, তারাপুর ইউনিয়নের খোদ্দা চরসহ আশেপাশের গ্রামগুলোর মানুষ নড়বড়ে একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। 

স্থানীয় বাসিন্দা আলম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সরকার আসে, সরকার যায়, কিন্তু ব্রিজ হয় না। আমাদের কথা কেউ ভাবে না। ৪০ বছর ধরে এই নালা পার হতে গিয়ে আমরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছি।"

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জের চরাঞ্চলে অন্তত ২০০টি স্থানে এখনো মানুষ বাঁশের সাঁকো বা নৌকায় যাতায়াত করেন। বর্ষাকালে নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকোই চরের মানুষের একমাত্র ভরসা।

স্থানীয় শিক্ষক শফিউল ইসলাম ও ডাঙ্গার চরের বাসিন্দা সোলেমান মিয়া জানান, প্রতিবছর বন্যার আগে ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় ও স্থানীয়দের শ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নড়বড়ে এই সাঁকো দিয়ে ভ্যান, রিকশা বা মোটরসাইকেল চলাচল করা প্রায় অসম্ভব। অসুস্থ রোগী বা গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতালে নেওয়া এক দুঃসাধ্য কাজে পরিণত হয়। 

ব্যবসায়ী আনছার আলী বলেন, "বর্ষায় নৌকা আর গ্রীষ্মে ঘোড়ার গাড়ি ছাড়া মালামাল পরিবহনের কোনো পথ নেই। এভাবে যুদ্ধ করে কতকাল ব্যবসা চালানো যায়?"

তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, "আগে মানুষ শুধু নৌকায় পার হতো। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর বাঁশ ও কাঠ দিয়ে সাঁকোটি নির্মাণ করেছি যা দিয়ে অন্তত ৩০টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। স্থায়ী ব্রিজের জন্য এলজিইডিতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, কিন্তু এখনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি।"

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জানান, চরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্থানে ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে বুড়াইল নালার ওপর ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিজা ইফফাত জাহান তুলি বলেন, "চরের ভৌগোলিক কারণে সমস্যা অনেক। সাঁকো বিড়ম্বনার বিষয়টি আমরা অবগত আছি। জনস্বার্থে এবং চরের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে স্থায়ী সমাধানের জন্য আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর