Image description

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী রনি মিয়া এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। দুটি কিডনি অকেজো হওয়ার পাশাপাশি ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত এই তরুণকে বাঁচাতে জরুরি উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া তার পরিবারের পক্ষে আর কোনো খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের রোশন শিমুলবাড়ী গ্রামের ভ্যানচালক জলিলের ছেলে রনি মিয়া। অর্থাভাবের কারণে নানা বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করে এসএসসিতে ৪.২৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি। স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে দেশের সেবা করার। সেই লক্ষ্যে তিনি ফুলবাড়ী ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণির বিএমডি শাখায় ভর্তি হন।

কিন্তু মাত্র সাত মাস আগে হঠাৎ রনির দুটি কিডনি বিকল হওয়ার উপক্রম হয়। ছেলের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে রনির বাবা নিজের একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই বসতভিটাটুকুও বিক্রি করে দেন। এরপর কিডনির চিকিৎসা চলাকালীন রনির ব্রেইন টিউমার ধরা পড়ে। বসতভিটা বিক্রির অবশিষ্ট টাকায় টিউমারের অপারেশন করা হলেও কিডনিসহ পরবর্তী চিকিৎসার জন্য এখন বিপুল অর্থের প্রয়োজন।

অসুস্থ রনি মিয়া অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, "আমার বাবা একজন দরিদ্র ভ্যানচালক। নানার বাড়িতে থেকে কষ্ট করে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। অসুস্থ হওয়ার পর ধারদেনা আর শেষ সম্বল বিক্রি করে এ পর্যন্ত চিকিৎসা চলেছে। এখন আর আমাদের কিছুই নেই। আমি বাঁচতে চাই, আবারও পড়ালেখায় ফিরতে চাই। সমাজের বিত্তবানরা একটু এগিয়ে এলে আমি সুস্থ হয়ে উঠতে পারতাম।"

স্থানীয়রা জানান, রনি অত্যন্ত মেধাবী ও বিনয়ী ছেলে। তার অসুস্থতায় গ্রামের সবাই ব্যথিত। পরিবারটি এখন সহায়-সম্বলহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের একটু সহযোগিতা পেলে এই প্রতিভাবান তরুণ আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল আলম সোহেল বলেন, "রনি মিয়া দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। বিষয়টি আমরা জানি এবং উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে তাকে সহযোগিতার চেষ্টা করছি। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন। আমি সমাজের হৃদয়বান মানুষদের রনির পাশে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।"

রনি মিয়াকে সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা:
বিকাশ নম্বর: ০১৭৯৮৯৭৯৮৬১ (রনি)।

মানবকণ্ঠ/ডিআর