কলাপাড়ায় কোস্টগার্ডের নির্যাতনে যুবক হাসপাতালে, বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার অভিযোগ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কোস্টগার্ড সদস্যদের মারধরে আহত মো. শামীম ফকির (২৮) নামে এক যুবককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তাকে ক্যাম্পে নিয়ে অমানবিক নির্যাতনের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। পরে রাত পৌনে ২টার দিকে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহত শামীম ফকির উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের আক্কেলপুর গ্রামের রনি ফকিরের ছেলে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শামীম ফকির জানান, ঘটনার রাতে তিনি তার ছোট ভাইকে নিয়ে সোনাতলা নদীর ওপর নির্মিত হাজীপুর সেতুতে ঘুরতে গিয়েছিলেন। এসময় সাদা পোশাকধারী কোস্টগার্ডের তিন সদস্য তাকে আটক করে নিজামপুর কোস্টগার্ড স্টেশনে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ‘চিংড়ির রেণু পোনা পাচারকারীদের গোয়েন্দা’ হিসেবে অভিযুক্ত করে বেধড়ক মারধর করা হয়। শামীমের অভিযোগ, নির্যাতনকালে তার অণ্ডকোষ লক্ষ্য করে লাথি মারা হয় এবং হাত-পা বেঁধে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়।
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে শামীম ফকিরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শরীরে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নিজামপুর কোস্টগার্ড স্টেশনের সরকারি মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভকারী ব্যক্তি নিজের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। তবে তিনি নিজেকে কোস্টগার্ডের গোয়েন্দা বিভাগের সদস্য পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, কোস্টগার্ড ক্যাম্পে এই ধরনের কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে হাজীপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এলাকায় বর্তমানে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে অবাধে চিংড়ির রেণু পোনা শিকারের মৌসুম চলছে। কোস্টগার্ড স্টেশনের অদূরেই প্রভাবশালীরা রেণু পোনা শিকার করলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অথচ সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে এমন নির্যাতনের ঘটনা দুঃখজনক।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments