Image description

টেকনাফ উপজেলায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং শুরু হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন গত ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। দিনে ও রাতের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার্থীরা তাদের পরীক্ষার প্রস্তুতি ঠিকমতো নিতে পারছেন না। বিশেষ করে রাতের বেলায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকেই মোমবাতি বা চার্জার লাইটের আলোতে পড়তে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়া দিন ও রাত মিলে প্রতিদিন ১৪-১৬ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।

দেশের অন্যান্য উপজেলার থেকে টেকনাফ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং করা হচ্ছে বলে দাবি সাড়ে তিন লক্ষ মানুষের। সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা ও রাতে লোডশেডিং করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ১৪-১৬ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ২ হাজার ৮৬৩ জন  এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ টেকনাফ উপজেলার প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের। হঠাৎ এই লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের। এদিকে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিদ্যুৎ নির্ভর স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান, ইন্টারনেট সংযোগ ও সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা প্রদানও ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে।

টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র এসএসসি পরীক্ষার্থী সামিউল হক শামিম বলেন, একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে ভয়াবহ বিদ্যুৎ লোডশেডিং এই সমস্যাগুলোতে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে।  টেকনাফ উপজেলার পল্লান পাড়ার বাসিন্দা শামসু বলেন, গতমাসে আমার বাড়ির মিটারে ৬০ ইউনিট বিল আসলেও এইমাসে ৮০ ইউনিট বিল এসেছে। এতো লোডশেডিং যে দৈনিক ২০/৩০ বার বিদ্যুৎ লোডশেডিং হয় এরপরও অন্যান্য সময়ের চেয়ে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসছে। আমি আগে মাসে বিল দিতাম ২ শত টাকা এখন দিতে হয় এক হাজার টাকা।

নয়াপাড়া আলহাজ্ব নবী হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উদয় শেখর দত্ত বলেন, টেকনাফে প্রতিমুহূর্তে বিদ্যুৎ লোডশেডিং হচ্ছে, যা আমাদের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থী ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ায় সমস্যা হচ্ছে। তাই টেকনাফ উপজেলায় যে হারে প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ লোডশেডিং হচ্ছে তা বন্ধ করে পরিক্ষার শেষ সময় পর্যন্ত হলে বিদ্যুৎ সচল রাখতে সরকারের কাছে দাবি জানান এই শিক্ষক। 

টেকনাফ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) জসিম উদ্দিন বলেন, টেকনাফ উপজেলায় দিনের বেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ৩৬ মেগাওয়াট থাকলেও ছোলার প্যানেলসহ মোট বিদ্যুৎ সরবরাহ হয় ২৬ মেগাওয়াট। রাতের বেলা সরবরাহ হয় ১৮ মেগাওয়াট, যার ফলে এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রগুলো লোডশেডিং মুক্ত রাখতেও চেষ্টা করেন বলে জানান তিনি।