বাগেরহাটের চিতলমারি উপজেলায় শৈলদাহ এসএস ডিপি মডেল উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জনসমক্ষে অবরুদ্ধ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের সামনে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মাঝে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালেও বিদ্যালয়ের অ্যাসেম্বলির নির্ধারিত সময়ের আগে শিক্ষার্থীরা গেটের সামনে অবস্থান করছিল। এসময় প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মিরাজুল ইসলাম বিদ্যালয়ে পৌঁছালে কিছু ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে পথরোধ করে। তারা প্রধান শিক্ষকের সাথে অত্যন্ত অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন এবং কেন শিক্ষার্থীরা বাইরে দাঁড়িয়ে আছে—এমন প্রশ্ন তুলে তাকে হেনস্তা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, এসময় স্থানীয় হিজলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গাউস কাজী উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সামনেই প্রধান শিক্ষককে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তাকে মারতে উদ্যত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই নেতা প্রধান শিক্ষককে উদ্দেশ্য করে দম্ভোক্তি প্রকাশ করে বলেন, “আমি ইউনিয়নের সভাপতি, আমার কথায় প্রতিষ্ঠান চলবে। আপনি আমার কথা শোনেন না! এই বেয়াদব যদি আমার কথা না শোনে, তবে এখানে প্রতিষ্ঠান চালানো যাবে না।” একপর্যায়ে তিনি প্রধান শিক্ষককে দেখে নেওয়ারও হুমকি প্রদান করেন।
এ ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক কোনোমতে বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে সহকর্মীদের সামনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষকরা তাকে সান্ত্বনা দেন। বিদ্যালয়ের ভেতরে একজন প্রধান শিক্ষকের সাথে এমন হীন আচরণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝেও বিস্ময় ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মিরাজুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যালয় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী খোলা হয় এবং সময়মতোই গেট খুলে শিক্ষার্থীদের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। কিন্তু সম্পূর্ণ অকারণে আমাকে সবার সামনে অপমান করা হয়েছে এবং হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
ঘটনার পর এলাকার সচেতন মহল ও অন্যান্য শিক্ষকরা এই ন্যাক্কারজনক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁরা মনে করছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সাথে এ ধরনের আচরণ শিক্ষার পরিবেশকে কলুষিত করে। স্থানীয়রা এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments