Image description

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় প্রচণ্ড ঝড়-তুফান, অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন এখন পানির নিচে। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পানিতে উপজেলার বিভিন্ন হাওরের প্রায় ৭০ হেক্টরেরও বেশি জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চারদিকে হাহাকার ছড়িয়ে পড়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, একদিকে যেমন ধান কাটার জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে এই সুযোগে এক্সেভেটর (ভেকু) চালকরা ধান কাটার জন্য অতিরিক্ত টাকা দাবি করছে। ফলে দ্বিগুণ ক্ষতির মুখে পড়েছেন সাধারণ চাষিরা। কষ্টের ফসল রক্ষায় কেউ কেউ হাঁটু সমান পানিতে নেমে আধা-পাকা ধান কাটার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন, আবার অনেককে নিথর হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখা গেছে তলিয়ে যাওয়া ফসলের দিকে।

ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে লাখাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহেদুল হক জানান, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নতুন করে প্রায় ৫৫ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। এর আগে আরও ১২ হেক্টর জমি তলিয়ে গিয়েছিল। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ হেক্টরের মতো বোরো জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, "বৃষ্টি কমলে পানি দ্রুত নেমে যাবে বলে আমরা আশা করছি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কৃষকরা যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের অবশিষ্ট ধান কেটে ঘরে তুলতে পারেন, সে ব্যাপারে আমরা মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছি।"

প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের ফলে ধার-দেনা করে চাষাবাদ করা কৃষকরা এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও ধান কাটার শ্রমিক সংকটের সমাধান না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

মানবকণ্ঠ/ডিআর