ভোলায় টেলিগ্রাম অ্যাপ ব্যবহার করে অশ্লীল কনটেন্ট বাণিজ্য ও সাইবার ব্ল্যাকমেইলের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৮। এ সময় তাদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত ১২টি অত্যাধুনিক স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৮-এর কোম্পানি অধিনায়ক মো. কামরুজ্জামান। এর আগে, রবিবার দিবাগত রাতে ভোলা ও বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মেরাজুর রহমান আরমান (২১) ওরফে ‘MARCO’, বিল্লাল হোসেন (২১) ওরফে ‘RDX PROFESSOR’, রবি আলম মমিন (২১), আল আমিন ইসলাম (১৯) এবং হাসিব (২৩)।
র্যাব জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তাদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে আসছিল। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যক্তিগত ডিভাইস হ্যাক করে কিংবা সম্পর্ক বিচ্ছেদের সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহ করত। পরবর্তীতে এসব ছবি ও ভিডিও টেলিগ্রামের প্রায় ৩৫০টি গোপন গ্রুপ ও চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা হতো।
প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তারকৃতদের মোবাইল ফোনে প্রায় দেড় লাখ স্পর্শকাতর ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে। চক্রটি শুধু কনটেন্ট বিক্রিই নয়, বরং ছবি ফাঁসের ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতে সাইবার ব্ল্যাকমেইল করত বলে প্রমাণ পেয়েছে র্যাব।
র্যাব-৮-এর অধিনায়ক জানান, এই সংঘবদ্ধ চক্রটি দেশের সাইবার নিরাপত্তায় বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments