Image description

হবিগঞ্জের মাধবপুরে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৯ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অত্যন্ত গুরুত্বর এই অপরাধটি ধামাচাপা দিতে একটি প্রভাবশালী মহল তৎপর হয়ে মাত্র ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ‘আপোষে দফারফা’ করেছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী শিশু আমান (৯) মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাছির মিয়ার ছেলে। সে উপজেলার মাল্লা গ্রামের শাহেদা খাতুন হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থী।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাছির মিয়া পেশায় ঢাকার মগবাজার এলাকার একটি হোটেলের কর্মচারী। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে থেকেও ছেলেকে কুরআনের হাফেজ বানানোর স্বপ্ন নিয়ে তিনি ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, গত রোববার রাতে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাইয়ুমের অনুপস্থিতিতে মোছাব্বির নামে এক সহকারী শিক্ষক তুচ্ছ ঘটনায় শিশু আমানকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করেন। এতে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর রক্ত জমাট ও আঘাতের চিহ্ন সৃষ্টি হয়।

পরে সোমবার আহত অবস্থায় তাকে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, আইনি জটিলতা এড়াতে একটি প্রভাবশালী চক্র হাসপাতাল থেকে তড়িঘড়ি করে শিশুটিকে সরিয়ে নিতে তার পরিবারকে বাধ্য করে। বর্তমানে শিশুটি বাড়িতে থাকলেও প্রচণ্ড আতঙ্ক ও ভীতিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাইয়ুম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়টি এলাকার কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বাচ্চার চিকিৎসার খরচ বাবদ পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।” তবে ওই ‘গণ্যমান্য’ ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।

আহত শিশুর বাবা বাছির মিয়া আহাজারি করে বলেন, “হাফেজ বানাতে পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু আমার নিরপরাধ বাচ্চাটাকে এভাবে মারা হলো! আমরা গরীব বলে কি বিচার পাব না?”

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, “ঘটনাটি লোকমুখে শুনেছি, তবে এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর