Image description

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় গত দুদিন ধরে চলা টানা ভারী বর্ষণ ও প্রবল ঝড়ে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত ২৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ২৯ এপ্রিল আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে উপজেলার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কৃষক ও খামারিরা।

টানা দুই দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে আছে পুরো লাখাই। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে, ফলে বাইরের জগতের সাথে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন। আলোর প্রয়োজনে মানুষ এখন মোমবাতি ও হারিকেনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যার ফলে স্থানীয় বাজারে কেরোসিন ও মোমবাতির চাহিদাও তুঙ্গে।

বিদ্যুৎহীনতা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। অন্ধকারের কারণে তাদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। স্কুলগুলোতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না।

উপজেলার পোল্ট্রি ও ডেইরি খামারিরা চরম সংকটের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন। খামারগুলোতে আইপিএস সুবিধা থাকলেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সেগুলো চার্জশূন্য হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত আলো ও নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার অভাবে গবাদি পশু ও মুরগিরড় বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন খামারিরা।

সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে কৃষি খাতে। গত ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত উপজেলায় প্রায় ৭০ হেক্টর ধানি জমি তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু ২৯ এপ্রিল রাতভর ভারী বর্ষণে পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক হয়ে পড়েছে। নিচু জমির পাশাপাশি এখন উঁচু জমিগুলোও পানির নিচে। পাকা ধান ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে এমন ফসলহানি কৃষকদের মাঝে হাহাকার সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহলের আশঙ্কা, এই ফসলহানি পুরো উপজেলায় তীব্র খাদ্য সংকট তৈরি করতে পারে।

দুর্যোগকবলিত লাখাইবাসীর দাবি, দ্রুত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় যেন প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর