চুয়াডাঙ্গায় ডিবি পরিচয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়ে চাঁদাবাজি
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌর এলাকায় ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে মোবাইল ফোনে অপহরণ ও আটকের নাটক সাজিয়ে অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজি শুরু করেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। গত কয়েক দিনে রাজনৈতিক নেতা, সাবেক জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীসহ অন্তত পাঁচজন ভুক্তভোগী এই চক্রের জালে ফেঁসে লক্ষাধিক টাকা খুইয়েছেন। এ ঘটনায় শনিবার রাতে দর্শনা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রতারক চক্রটি প্রথমে বিভিন্ন নম্বর থেকে কল দিয়ে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয়। এরপর ‘আপনার ছেলেকে আটক করা হয়েছে’ অথবা ‘অপহরণ করা হয়েছে’ বলে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে। কলটি কাটতে না দিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে কথা বলে তাৎক্ষণিক বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেয় তারা। নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে ১০ থেকে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি।
ভুক্তভোগী দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক ইকবাল হোসেন জানান, গত শনিবার রাতে একটি নম্বর থেকে কল দিয়ে তার ছেলে অমিওকে আটকের ভয় দেখিয়ে ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে তিনি একটি বিকাশ নম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠান। দর্শনা পৌরসভার সাবেক মেয়র আতিয়ার রহমান হাবু জানান, গত সোমবার দুপুরে তাকেও ফোন দিয়ে ছেলের অপহরণের ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করা হয়েছিল। এছাড়া রামনগরের শরিফ উদ্দিনের কাছ থেকে ১১ হাজার টাকা, দর্শনা রেল বাজারের বিকাশ ব্যবসায়ী রানার কাছ থেকে ২৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল কাদেরের কাছ থেকে কৌশলে ৯০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্র।
প্রতারক চক্রটি ০১৮৭১৫০৩৩১৪, ০১৩১৮০৪৯৭৩৭ ও ০১৬০৩৭৯৮২৬২ নম্বরসহ বিভিন্ন নম্বর থেকে কল দিচ্ছে এবং ০১৮৩৬০৬৭৫৬৬, ০১৭৫৩৫৭৯৯৬৭ সহ একাধিক বিকাশ নম্বরে টাকা সংগ্রহ করছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের কল পেলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে পরিবারের সদস্যের প্রকৃত অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। ডিবি বা পুলিশ কখনোই ফোনে টাকা দাবি করে না। সন্দেহজনক কল পেলে সাথে সাথে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিমেল রানা বলেন, “প্রতারণার বিষয়ে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারক চক্রটিকে শনাক্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments