Image description

নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভা এলাকায় ১১ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ৫ শত টাকার প্রলোভন দেখিয়ে একটি ফার্নিচারের দোকানে ডেকে নিয়ে এই জঘন্য কাজ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সোমবার (৪ মে) সকালে লোহাগড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আকতার খান (৫৫)। তিনি উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের আড়িয়ারা গ্রামের বাসিন্দা এবং লোহাগড়া পৌরসভার আলামুন্সির মোড়ে একটি ফার্নিচারের দোকানের মালিক।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ মে (শনিবার) দুপুরে ওই প্রতিবন্ধী শিশুটি আলামুন্সির মোড় এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিল। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে অভিযুক্ত আকতার খান শিশুটিকে তার দোকানে ডেকে নেন। এরপর ৫ শত টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দোকানের ভেতরে নিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার পর স্থানীয় একটি পক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং মেয়েটিকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে কাউকে কিছু বলতে নিষেধ করে। তবে গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি জানতে পেরে অনুসন্ধানে নামলে ঘটনার প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসে এবং শিশুটি তার ওপর ঘটা পৈশাচিক নির্যাতনের কথা খুলে বলে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত আকতার খান দোকান বন্ধ করে পালিয়ে গেছেন।

ভুক্তভোগী শিশুর পিতা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি দিনমজুর, পরিবার নিয়ে গুচ্ছগ্রামে বসবাস করি। যে আমার অসহায় মেয়েটাকে ধর্ষণ করেছে, আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে আকতার খানের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

লোহাগড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত আকতার খানকে গ্রেফতার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। ওদিকে শিশুটির শারীরিক পরীক্ষার প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছে।