Image description

শ্রমিক সংকট, বজ্রপাত, অতিবৃষ্টি আর ধান শুকানোর বিড়ম্বনা—এতসব প্রতিকূলতা জয় করে অবশেষে গোলায় ধান তুলেছেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের কৃষকরা। সেই কষ্টের ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমার আশায় কৃষকদের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে।

সোমবার (৪ মে) দুপুরে তাহিরপুর উপজেলা খাদ্যগুদাম প্রাঙ্গণে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ধান ঘরে তুলতে এ অঞ্চলের কৃষকদের চরম বেগ পেতে হয়েছে। সপ্তাহব্যাপী রোদ না থাকায় পাকা ধানে অঙ্কুরোদগম হওয়ার মতো সংকট তৈরি হয়েছিল। তবে সব বাধা পেরিয়ে কৃষকরা যখন ধান শুকিয়ে গোলায় তুলছেন, ঠিক সেই সময়ে সরকারি সংগ্রহ অভিযান শুরু হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরুখ আলম শান্তনু, তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বলসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক জানান, সরকার নির্ধারিত প্রতি মণ (৪০ কেজি) ১,৪৫০ টাকা দরে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ করা হবে। এতে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

উপজেলা খাদ্য বিভাগ জানায়, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উপজেলার বিভিন্ন সংগ্রহ কেন্দ্র থেকে এই কার্যক্রম চলবে। সরকারের এই সময়োপযোগী উদ্যোগে স্থানীয় কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন এবং আগামীতে আরও ধান উৎপাদনে উৎসাহিত হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

মানবকণ্ঠ/ডিআর