পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে জমে উঠেছে কোরবানি পশুর হাট। এবার কোরবানির হাটে পাহাড়ী গরুর চাহিদা তুঙ্গে। পাহাড়ি গরু ক্ষতিকর মোটা-তাজাকরণ ওষুধ ছাড়াই পাহাড়ের সবুজ প্রাকৃতিক লতা-পাতা খেয়ে বড় হয়। ফলে এ গরুর মাংস স্বাদে সেরা ও মাংস নিরাপদ বলে জানান ক্রেতারা।
পাহাড়ি এলাকায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব গরু রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। বিশেষ করে লাল বিরিষ জাতের পাহাড়ি গরুর বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে।
বুধবার সকালে হাট ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকা থেকে কোরবানির পশু নিয়ে আসছেন ব্যাপারীরা। মাঠে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে গরু, সকলে সেরে নিচ্ছেন বেচাকেনার কাজ। জেলা শহরের বাইরে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী ও চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকেও এই পশুর হাটে আসছেন ব্যাপারিরা।
তবে জমজমাট এই পশুর হাটের মধ্যেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রতারক চক্র,যা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘মলম পার্টি’। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক খামারি তার গরু বিক্রি করে ৬৬ হাজার টাকা হাতে পাওয়ার পর প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনার পর বাঘাইছড়ি থানা পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন থানার অফিসার ইনচার্জ নাছির উদ্দীন মজুমদার।
ক্রেতা বদিউল আলম বলেন, ‘পাহাড়ি গরু হৃষ্টপুষ্ট ও স্বাদে সেরা হওয়ায় চাহিদা বেশি। হাটে প্রচুর পরিমাণে পাহাড়ি গরু রয়েছে। এখনো হাট ঘুরে দেখছি। যদি পছন্দমতো পেয়ে যায় তাহলে নিয়ে নেবো।’
বেপারী হায়দার জানান, গতবছরের তুলনায় এবার হাটে গরু বেশি কিন্তু ক্রেতা কম ও গরু দামেও তুলনামূলক কম।
কোরবানি পশুর হাট ইজারাদার সেলিম জাবেদ বলেন, প্রচন্ড রোদের কারণে গরু ও মানুষ অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে তাই স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সহোযোগিতায় কামনা করছি আগের জায়গায় গরুর হাট বসানোর জন্য।




Comments