Image description

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে দীর্ঘ সাত মাস ধরে তীব্র ওষুধ সংকট ও নানা অনিয়মের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে চিকিৎসাসেবা। তৃণমূলের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লিনিকগুলো থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সেবা না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে গ্রামের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিক ঘুরে জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর মাসের পর থেকে এসব ক্লিনিকে কোনো ওষুধের সরবরাহ নেই। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এসব ক্লিনিকে জ্বর, কাশি, সর্দি, গ্যাস্ট্রিক ও ব্যথানাশকসহ প্রায় ২২ প্রকারের ওষুধ থাকার কথা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহ না থাকায় রোগীদের বাইরের ফার্মেসি থেকে চড়া দামে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। এতে অনেক দরিদ্র পরিবারকে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, চারঘাট উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে মোট ২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। প্রতিটি ক্লিনিকে ৩ জন করে স্বাস্থ্যসেবা কর্মী নিয়োজিত থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ ক্লিনিকে মাত্র ১ থেকে ২ জন দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে।

সরেজমিনে নিমপাড়া ও ভায়ালক্ষীপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের আগেই ক্লিনিকগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোথাও স্বাস্থ্যকর্মী অনুপস্থিত, আবার কোথাও একজন কর্মী দিয়ে পুরো কার্যক্রম খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। ওষুধ না পেয়ে অনেক রোগীকে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে।

ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সালেহা বেগম বলেন, "ক্লিনিক নিয়মিত খোলা থাকে না, আবার গেলেও কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না। জরুরি সময়ে আমাদের মতো গরিব মানুষের ভরসা ছিল এই ক্লিনিক। এখন বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়ে বাইরের ডাক্তার ও ওষুধ কিনতে হচ্ছে।"

ভায়ালক্ষীপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি শামরোজ সুলতানা জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসে তারা সর্বশেষ ওষুধ পেয়েছিলেন। এরপর থেকে আর কোনো সরবরাহ নেই। তিনি বলেন, "ওষুধ না থাকায় রোগীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। এছাড়া জনবল সংকটের কারণে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মাঝে মাঝে ক্লিনিক বন্ধ রাখতে হয়।"

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কমিউনিটি ক্লিনিক গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু পর্যাপ্ত জনবল ও নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় সরকারের এই মহতী উদ্যোগের সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না। তারা দ্রুত ওষুধ সরবরাহ এবং ক্লিনিকগুলোর কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক রেজা বলেন, "সরকারিভাবে ওষুধের সরবরাহ বর্তমানে সীমিত। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সংকট কাটিয়ে স্বাস্থ্যসেবার মান ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর