Image description

সাধারণত শীতকালীন সবজি হিসেবে পরিচিত হলেও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক কৃষি ও সঠিক পরামর্শে দিনাজপুরে গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন কৃষক ওবায়দুল ইসলাম (৫০)। অসময়ে বাজারে এই সবজির ভালো দাম ও চাহিদা থাকায় জেলার অন্য কৃষকদের মাঝেও নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে।

ওবায়দুল ইসলাম দিনাজপুর সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের উত্তর মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা। কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবার তিনি তার ৩০ শতক জমিতে খরিপ-১ মৌসুমে ‘আইসবল’ জাতের প্রায় ৫ হাজার ফুলকপির চারা রোপণ করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওবায়দুল ইসলামের খেত জুড়ে এখন সাদা ফুলকপির সমারোহ। মাত্র ৬০ দিনের নিবিড় পরিচর্যায় তিনি এই ফলন ঘরে তুলছেন। বর্তমানে পাইকারি দরে প্রতি কেজি ফুলকপি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ওবায়দুল ইসলাম জানান, মার্চ মাসের শেষের দিকে তিনি জমি প্রস্তুত করে চারা রোপণ করেছিলেন। তিনি বলেন, “কৃষি বিভাগের পরামর্শে জৈব সার এবং পোকামাকড় দমনে ফেরোমন ফাঁদ, আঠাল ফাঁদ ও লাইট ট্র্যাপ ব্যবহার করেছি। বিষমুক্ত ও নিরাপদ পদ্ধতিতে চাষ করায় কপির মান খুব ভালো হয়েছে। ৩০ শতক জমিতে খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। আশা করছি, সব খরচ বাদ দিয়ে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা লাভ হবে।”

তার এই সাফল্য দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন প্রতিবেশী কৃষকরাও। স্থানীয় কৃষক বজলার রহমান বলেন, “গরমের সময় ফুলকপি চাষ যে সম্ভব, তা ওবায়দুল ভাইয়ের জমি না দেখলে বিশ্বাস হতো না। আমি নিজেও আগামী বছর এক একর জমিতে এই চাষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

সবজি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, অসময়ে বাজারে ফুলকপির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সরাসরি খেত থেকে তাজা ফুলকপি সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে যাওয়ায় ভোক্তারাও বেশ আগ্রহের সঙ্গে কিনছেন।

দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ তুষার বলেন, “টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আমরা গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি। ওবায়দুল ইসলামকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, সার ও বীজ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় দিনাজপুর অঞ্চলে এই পদ্ধতি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।”

কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষের ফলে কৃষকরা যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, তেমনি ভোক্তারাও মৌসুমের বাইরে পুষ্টিকর ও তাজা সবজি পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর