আগৈলঝাড়ায় মাদক কারবারির সহযোগীদের ‘শিক্ষার্থী’ সাজিয়ে সাংবাদিকদের নামে জিডি
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মাদক ব্যবসায়ীর তিন সহযোগীকে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়েছে পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্তদের ‘ভুয়া শিক্ষার্থী’ সাজিয়ে দুই সাংবাদিকের নামে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করানো হয়েছে। এ ঘটনায় মাদক মামলার বাদী এসআই মনির হোসেনকে ক্লোজ করা হলেও ঘটনাস্থলে থাকা এসআই ওমর ফারুক এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ মে রাতে উপজেলার বারপাইকা স্টিল ব্রিজের ওপর থেকে মাদক ব্যবসায়ী শিবলী আহমেদসহ তার তিন সহযোগী নাঈম মোল্লা, সাব্বির শাহ ও জিহাদ সরদারকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেন এসআই মনির হোসেন। পরদিন শিবলীকে আসামি করে মামলা দিলেও বাকি তিনজনকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে ১২ মে এসআই মনির হোসেনকে থানা থেকে ক্লোজ করে বরিশাল পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
তবে এরপরই শুরু হয় ভিন্ন নাটক। ছেড়ে দেওয়া তিন ব্যক্তিকে ‘শিক্ষার্থী’ পরিচয় দিয়ে থানায় ডেকে এনে সাংবাদিকদের নামে জিডি করান পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জিডিতে যাদের শিক্ষার্থী দাবি করা হয়েছে, তাদের দুজনেরই লেখাপড়ার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বাগধা ইউনিয়নের আস্কর গ্রামের জিহাদ সরদার অন্তত তিন বছর আগেই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছেন। ২০০১ সালে একটি আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় তিনি দীর্ঘদিন জেল খেটে বর্তমানে জামিনে আছেন। অন্যদিকে, বারপাইকা গ্রামের নাঈম মোল্লা পেশায় একজন মাছের গাড়ির হেলপার। তাকেও জিডিতে শিক্ষার্থী হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এছাড়া এসএস বাদশা শাহ নামের এক ব্যক্তি তার ছেলে সাব্বির শাহকে মাদক ব্যবসায়ীর সহযোগী বলায় সম্মানহানি হয়েছে দাবি করে সাংবাদিকদের নামে জিডি করেন। তবে সাব্বিরের মা শাহিদা বেগম ছেলের কলেজের নাম পর্যন্ত বলতে পারেননি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিজেদের অপরাধ ঢাকতে পুলিশ পরিকল্পিতভাবে অপরাধীদের ‘ভুয়া শিক্ষার্থী’ পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের হয়রানি করার চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments