জাজিরায় সুদের টাকার বিরোধে ৬ মাসের শিশু অপহরণ, মেলেনি সন্ধান
শরীয়তপুরের জাজিরায় সুদের টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে জাহিদ নামের ৬ মাস বয়সী এক শিশুকে অপহরণ ও ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার দুই দিন অতিবাহিত হলেও শিশুটিকে উদ্ধার করতে না পারায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, মালয়েশিয়া প্রবাসী জুয়েল মল্লিকের স্ত্রী রাত্রি বেগম ২০২৪ সালে অভিযুক্ত আসমা আক্তারের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা সুদে নেন। ২০২৫ সালে সুদসহ মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে লিখিতভাবে লেনদেন নিষ্পত্তি করা হয়। তবে টাকা পরিশোধের পরও আসমা ও তার চক্রটি পুনরায় টাকা দাবির জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। এরই জেরে গত দুই দিন আগে শিশু জাহিদকে অপহরণ করা হয় এবং ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
এদিকে, রোববার (১৭ মে) দুপুরে জাজিরার ডুবিসায়বর এলাকায় মফি কাজীর বাড়িতে টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অভিযুক্ত আসমা আক্তারকে ডেকে আনে স্বজনরা। পরে স্থানীয়রা তাকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসমা আক্তারকে তাদের হেফাজতে নেয়।
তবে অভিযুক্ত আটকের সময় স্থানীয়দের সামনেই চড়া গলায় হুমকি দিয়ে বলেন, “আমার টাকা না দিয়ে পুলিশে খবর দিয়েছিস, আমি লাশ হয়ে গেলেও তোদের বাচ্চা ফেরত পাবি না।” এমন হুমকিতে নিখোঁজ শিশুটির জীবন নিয়ে চরম শঙ্কায় পড়েছে পরিবার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সুদের ব্যবসার আড়ালে মানুষের জমি ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়ে আসছিল। শিশু অপহরণের মতো গুরুতর ঘটনায় পুলিশ শুরুতে শুধু সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নিয়ে সময়ক্ষেপণ করেছে বলে দাবি পরিবারের। অভিযুক্ত নারী পুলিশের হেফাজতে থাকলেও এখন পর্যন্ত শিশুটির কোনো সন্ধান না পাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহ আলমের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। থানার দায়িত্বরত কেউ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments