পীরগঞ্জে কোরবানির প্রস্তুতি, টুংটাং শব্দে মুখর কামারশালা
পবিত্র ঈদুল আযহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কামারশালাগুলোতে কর্মব্যস্ততা তুঙ্গে উঠেছে। আগুনের লেলিহান শিখা, কয়লার ধোঁয়া আর হাতুড়ির টুংটাং শব্দে এখন মুখর উপজেলার বিভিন্ন কামারপাড়া ও বাজার এলাকা।
ঈদকে সামনে রেখে দা, বটি, ছুরি, চাপাতি ও চাকু তৈরির পাশাপাশি পুরোনো সরঞ্জামে নতুন করে শান দেওয়ার কাজে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত করতে কারিগরদের এখন দম ফেলারও সময় নেই।
মঙ্গলবার (১৮ মে) সকালে পৌর এলাকার কলেজ বাজার ঘুরে দেখা যায়, কামার বাবুলের কর্মশালায় চলছে ব্যাপক ব্যস্ততা। জ্বলন্ত চুল্লিতে লোহা পুড়িয়ে লাল করে হাতুড়ির আঘাতে তৈরি করা হচ্ছে ধারালো সরঞ্জাম। একই সঙ্গে পুরোনো সরঞ্জামে ধার দিতে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। আগুনের উত্তাপ আর লোহার ঝনঝন শব্দের মাঝে শ্রমিকদের ঘাম ঝরানো পরিশ্রম যেন এক জীবন্ত শিল্পচিত্র তৈরি করেছে।
কামার উজ্জ্বল বলেন, “ঈদুল আযহার সময় আমাদের কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। আমার এখানে চারজন কারিগর বিরতিহীনভাবে কাজ করছেন। কেউ নতুন সরঞ্জাম তৈরি করছেন, আবার কেউ পুরোনো জিনিসে শান দিচ্ছেন।”
তিনি আরও জানান, এই মৌসুমে কাজের পরিমাণ বাড়লেও কাঁচামাল ও কয়লার দাম বেশি হওয়ায় লাভ তুলনামূলক কম। তবুও গ্রাহকদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।
স্থানীয় ক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, “কোরবানির ঈদের আগে দা-বটি ধারালো করে রাখা জরুরি। সারা বছর এসব জিনিসের খুব একটা প্রয়োজন না হলেও ঈদের সময় কাজের চাপে কামাররা সময় পান না, তাই আগেভাগেই সব কাজ গুছিয়ে নিচ্ছি।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়লেও কোরবানির মৌসুমে দেশীয় কামারশিল্পের চাহিদা এখনো অটুট। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পটি গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে টিকে আছে। পীরগঞ্জের কামারশালাগুলোর এই ব্যস্ততা জানান দিচ্ছে—গ্রামে গ্রামে এখন পুরোদমে চলছে ঈদের প্রস্তুতি।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments