রায়গঞ্জ ভূমি অফিসে কাজ আটকে যাওয়ার ভয়ে ফাঁকা থাকে ‘অভিযোগ বক্স’
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে সেবা নিতে এসে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। অতিরিক্ত টাকা আদায়, অকারণে ঘোরানো এবং দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ থাকলেও কাজ আটকে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই লিখিত অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে অফিসের সামনে থাকা ‘অভিযোগ বক্সটি’ দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ফাঁকাই পড়ে থাকছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন শতাধিক মানুষ নামজারি (মিউটেশন), মিসকেস, খতিয়ান সংশোধন ও ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন সেবা নিতে উপজেলা ভূমি অফিসে আসেন। তবে সেবা পেতে গিয়ে অনেককেই দালালের দৌরাত্ম্য, ফাইল নিষ্পত্তিতে ধীরগতি ও নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আবেদনকারী অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হচ্ছে। আবার বিভিন্ন অজুহাতে দিনের পর দিন ঘোরানো হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, "আজ নয় কাল, কাল নয় পরশু"— এভাবেই সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভূমি অফিসের প্রবেশমুখে দৃশ্যমান স্থানে একটি অভিযোগ বক্স রাখা আছে। তবে সেটি দীর্ঘদিন ধরেই প্রায় শূন্য। সেবাপ্রত্যাশীদের ভাষ্য, অভিযোগ করলে পরে দাপ্তরিক কাজ আরও আটকে যেতে পারে বা ফাইল গায়েব হতে পারে— এমন আশঙ্কায় তারা লিখিত অভিযোগ দিতে চান না।
ভুক্তভোগীদের মতে, অনেক সময় সব কাগজপত্র সঠিকভাবে জমা দেওয়ার পরও মোবাইলে ‘আবেদন বাতিল’ হওয়ার বার্তা আসে। পরে আবার নতুন করে সংশোধন বা অতিরিক্ত কাগজ নিয়ে অফিসে যেতে হয়, এতে সময় ও অর্থ— উভয়েরই অপচয় হচ্ছে।
জানা গেছে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুদ রানা প্রশিক্ষণে থাকায় বর্তমানে নামজারি ও মিসকেসসহ চার হাজারের বেশি আবেদন পেন্ডিং হয়ে আছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তার ব্যস্ততার সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারী ও দালাল চক্র সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সমাজসেবক ফয়সাল বিশ্বাস বলেন, “ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষ নানা সেবা নিতে আসেন। অনেকেই হয়রানির কথা বললেও লিখিত অভিযোগ দিতে সাহস পান না। অভিযোগকারীদের পরিচয় গোপন রেখে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে মানুষের আস্থা বাড়বে এবং এই ভীতি দূর হবে।”
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রশিক্ষণে থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ভূমি অফিসের কাজ আমাকে দেখতে হচ্ছে। কাজের চাপের কারণে কিছুটা ধীরগতি হতে পারে। তবে কেউ কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হলে বা অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে সরাসরি আমাকে জানাতে পারেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, প্রতিটি আবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করেই অনুমোদন দেওয়া হয়।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments