Image description

নওগাঁর রাণীনগরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন যুবকের পরিচয় জানতে চাওয়ায় এক এসআই ও এক এএসআই-কে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বিজয়কান্দি বড়বড়িয়া রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। লাঞ্ছনার শিকার দুই পুলিশ সদস্য হলেন—রাণীনগর থানার এসআই রতন কুমার সরকার ও এএসআই ওবাইদুর রহমান।

মামলার আসামিরা হলেন—বিজয়কান্দি বড়বড়িয়া গ্রামের মো. আশিক (২৩), তার মা মোছা. চায়না বেগম (৫০) এবং একই এলাকার মো. নয়ন (৩৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি রাণীনগরে চুরি, ছিনতাই ও মাদকের বিস্তার রোধে বিশেষ টহল জোরদার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সিভিল পোশাকে অভিযানে থাকা এসআই রতন ও এএসআই ওবাইদুর রেলগেট এলাকায় তিন যুবককে দেখে তাদের পরিচয় জানতে চান। এতে আশিক নামে এক যুবক ক্ষিপ্ত হয়ে তর্কে জড়ান এবং ফোন করে তার মাসহ আরও ১২-১৫ জনকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে ধাক্কাধাক্কি, মারধর ও লাঞ্ছিত করেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

লাঞ্ছনার শিকার এসআই রতন কুমার সরকার জানান, “আমরা সরকারি দায়িত্ব পালনকালে সন্দেহভাজনদের পরিচয় জানতে চাইলে আশিক চরম ধৃষ্টতা দেখায়। একপর্যায়ে তার মাসহ অন্যদের ডেকে এনে আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং অভিযানে বাধা প্রদান করে।”

রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া মন্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “কয়েকদিন আগে এই আশিককে একটি মাদক মামলায় এই দুই পুলিশ সদস্যই গ্রেপ্তার করেছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিরা পলাতক থাকলেও তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর