৪০ কোটি টাকার ঋণ জটিলতায় দেউন্দি টি কোম্পানি, ধর্মঘটের ডাক শ্রমিকদের
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঋণ বিতরণে দীর্ঘসূত্রতা ও টালবাহানার কারণে চরম অর্থ সংকটে পড়েছে দেউন্দি টি কোম্পানি। এতে বাগানটির শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি, স্টাফদের বেতন-ভাতা, ঈদ ও পূজা বোনাসসহ অন্যান্য ব্যয় পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বকেয়া পাওনা না পেয়ে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দ্রুত মজুরি পরিশোধ করা না হলে আগামীকাল সোমবার (২৫ মে) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য চা বাগান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের চা শিল্প বর্তমানে বহুমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে দেউন্দি টি কোম্পানির আওতাধীন হবিগঞ্জের লালচান্দ, নোয়াপাড়া ও দেউন্দি চা বাগান এবং মৌলভীবাজারের মিরথিংগা চা বাগানে আর্থিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।
বাগান কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি লালচান্দ চা বাগানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে কোম্পানির ১৩টি বড় ট্রান্সফরমার চুরির ফলে আরও অর্ধকোটি টাকার লোকসান গুনতে হয়। এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কাছে ৪০ কোটি টাকার ঋণ আবেদন করে কোম্পানিটি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ৩৭ কোটি টাকা অনুমোদন দিলেও এ পর্যন্ত মাত্র ২৫ কোটি টাকা ছাড় করেছে। বাকি ১২ কোটি টাকা এপ্রিল মাসে দেওয়ার কথা থাকলেও মে মাস শেষ হতে চললেও তা ছাড় করা হয়নি। এতে বাগান পরিচালনা ও শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
নোয়াপাড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক সোহাগ মাহমুদ বলেন, “আগে যখন মজুরি কম ছিল, তখন ব্যাংক ৬০-৭০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। বর্তমানে মজুরি বেড়ে ১৮৭ টাকা ৪২ পয়সা হলেও এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেলেও ব্যাংক ঋণ দিতে টালবাহানা করছে। এতে শ্রমিকদের চাপ বাড়ছে এবং বাগান পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”
এদিকে, বকেয়া মজুরি না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন সাধারণ শ্রমিকরা। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে নিয়মিত মজুরি না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। লালচান্দ চা বাগানের ব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ জানান, অনুমোদিত ঋণের বাকি ১২ কোটি টাকা না পাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। বর্তমানে আরও প্রায় ১৫ কোটি টাকার দায়ভার জমে আছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ২২ মে নোয়াপাড়া চা বাগানে শ্রমিক পঞ্চায়েত ও নেতৃবৃন্দের এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, আজ রোববারের (২৪ মে) মধ্যে বকেয়া মজুরি পরিশোধ না করা হলে আগামীকাল সোমবার থেকে বাগানে কাজ বন্ধ রেখে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করা হবে।
চা সংসদ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত এই ঋণ জটিলতা নিরসন না হলে দেউন্দি টি কোম্পানি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে, যা সামগ্রিক চা শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments