Image description

শরীয়তপুরের নড়িয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়ার ছবিতে জুতাপেটা করেছেন নিহতের মা আলেয়া বেগম।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে শরীয়তপুর জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনা ঘটে। সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবার, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, তানজিলার মৃত্যু রহস্যজনক হলেও নড়িয়া থানা পুলিশ ঘটনাটিকে শুরু থেকেই আত্মহত্যা হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং আসামিদের রক্ষা করতে তদন্ত ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তারা। স্বজনদের অভিযোগ, বড় অংকের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে পুলিশ মামলাটি হালকা করার চেষ্টা করছে।

সংবাদ সম্মেলনের একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নিহতের মা আলেয়া বেগম। তিনি ওসির ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে ব্যানার থাকা ওসির ছবিতে জুতাপেটা করেন। এসময় তিনি বলেন, “এক মাস পেরিয়ে গেলেও আমার মেয়ে হত্যার বিচার পাচ্ছি না। আমার মেয়েকে মেরে ফেলা হয়েছে, কিন্তু পুলিশ এটাকে আত্মহত্যা বানানোর চেষ্টা করছে। ওরে জুতাপেটা করলেও আমার মনের জ্বালা মেটে না।”

এ বিষয়ে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া বলেন, “ঘটনার পর মামলা নেওয়া হয়েছে, আসামিদের গ্রেপ্তার করে রিমান্ডেও পাঠানো হয়েছিল। আমরা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছি। প্রাথমিকভাবে তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তদন্ত সঠিক পথেই চলছে। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই সংবাদ সম্মেলনে এমনটি করা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, গত ৪ জানুয়ারি পরিবারের অমতে একই এলাকার অপু বেপারীকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন তানজিলা আক্তার। গত ২৪ এপ্রিল শ্বশুরবাড়িতে তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি এটি আত্মহত্যা হলেও নিহতের পরিবারের অভিযোগ—যৌতুকের ৫ লাখ টাকার দাবিতে তানজিলাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২৪ এপ্রিল নিহতের মা আলেয়া বেগম বাদী হয়ে নড়িয়া থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর