Image description

সহকর্মী এক পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রীকে ফুসলিয়ে বিয়ে এবং পরবর্তীতে তালাক দেওয়ার পর, পুনরায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মিজানুর রহমান (২৯) নামে এক বরখাস্তকৃত পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। 

সোমবার (২৫ মে) শেরপুরের নালিতাবাড়ী থানায় ২৩ বছর বয়সী ওই ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

অভিযুক্ত মিজানুর রহমান হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার তাম্বুলিটোলা গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ওই তরুণীর বাড়ি ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা বাজার এলাকায়। অন্য দিকে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল মিজানুর রহমানের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার তাম্বুলিটোলা গ্রামে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার থানায় কর্মরত থাকাকালীন সময়ে সহকর্মী এক কনস্টেবলের স্ত্রীর ওপর নজর পড়ে মিজানের। একপর্যায়ে ওই তরুণীকে বিভিন্নভাবে ফুসলিয়ে তার চার বছর বয়সী কন্যাসন্তানসহ ২০২৩ সালের ৭ জুলাই বিয়ে করেন কনস্টেবল মিজানুর। তবে বিয়ের পর প্রায় দেড় বছর সংসার করার পর, গত ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি তিনি তার এই স্ত্রীকে তালাক দেন। আকস্মিক এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী তরুণী মিজানুরের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করলে কনস্টেবল মিজানুর রহমান পুলিশ বিভাগ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হন।

বিভাগীয় ব্যবস্থা ও মামলার মুখোমুখি হওয়ার পর সম্প্রতি বরখাস্ত হওয়া কনস্টেবল মিজানুর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পুনরায় তার তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। একপর্যায়ে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে আবারও বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে গত ৯ মে ওই তরুণীকে নিয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলার পানিহাতা গ্রামে তরুণীর নানাবাড়িতে আসেন তিনি। সেখানে রাতে নতুন করে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আদালতের চলমান মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য তরুণীকে চাপ দেন এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। তবে পরদিন সকালেই মিজানুর কোনো সিদ্ধান্ত না জানিয়ে কৌশলে নানাবাড়ি থেকে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যান।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী তরুণী সোমবার নালিতাবাড়ী থানায় হাজির হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শেষে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।

নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান মামলার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী তরুণীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত কনস্টেবল পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।