গাইবান্ধায় লোকসানে দিশেহারা মৌসুমি ব্যবসায়ীরা, মহাসড়কে ফেলে দিলেন চামড়া
গাইবান্ধায় কোরবানির পশুর চামড়ার কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন জেলার ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। ক্রেতা না পেয়ে হতাশ হয়ে অনেক ব্যবসায়ী ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মহাসড়কের পাশেই চামড়া ফেলে রেখে গেছেন।
শনিবার (৩০ মে) সকালে জেলার গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার ফ্লাইওভারের নিচে ও পলাশবাড়ী পৌর এলাকার মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চামড়া পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সেগুলো মাটিচাপা দেওয়া হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম চামড়ার হাট বসে পলাশবাড়ীর কালিবাজারে। প্রতি বছর ঈদুল আজহার পরবর্তী প্রথম বুধবার এই হাটে ঢাকা থেকে ট্যানারি মালিকরা চামড়া কিনতে আসেন। এবারও আগামী ৩ জুন (বুধবার) বড় হাট বসার কথা রয়েছে। বড় হাটের আশায় ঈদের দিন থেকেই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মৌসুমি ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ চামড়া নিয়ে কালিবাজারে আসতে শুরু করেন। কিন্তু দুই দিন অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা বা পাইকার না পাওয়ায় চামড়ায় পচন ধরার উপক্রম হয়। এতে নিরুপায় হয়ে অনেকেই চামড়া মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে চলে যান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার এক মাদ্রাসাশিক্ষক জানান, মাদ্রাসার দানের চামড়াগুলো বিক্রির আশায় ভ্যানে করে মহাসড়কে নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু সারাদিন অপেক্ষা করেও কোনো ক্রেতা পাননি। উল্টো পরিবহন খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে চামড়াগুলো সড়কের পাশে রেখে গেছেন।
ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি হলেও লবণের উচ্চমূল্য ও পরিবহন খরচের কারণে তারা এবার বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন। কালিবাজারের বড় হাটে ট্যানারি মালিকরা না আসা পর্যন্ত এই সংকট কাটার সম্ভাবনা দেখছেন না তারা।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments