মালয়েশিয়া থেকে দীর্ঘ দিন পর দেশে ফিরেছিলেন বড় ছেলে আরিফ। প্রিয় সন্তানকে বিমানবন্দর থেকে আনতে সপরিবারে ঢাকা গিয়েছিলেন মা নুরজাহান বেগম। ফেরার পথে খুশির আমেজ ছিল পুরো পরিবারে। কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নিল মহাবিষাদে। এক্সপ্রেসওয়েতে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী ওই যুবকসহ তাঁর মা, ভাই ও বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর ৪টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মালীগ্রাম এলাকায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকার চালকসহ মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন—যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৫০), তাঁর মেয়ে আয়েশা বেগম (২৮), দুই ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী আরিফ ইসলাম (২৫) ও রাকিব ইসলাম (১৮)। এছাড়া নিহত হয়েছেন প্রাইভেটকার চালক জাহিদ হোসেন (৩২), যাঁর বাড়ি যশোরের মনিরামপুর উপজেলায়।
হাইওয়ে পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আরিফ ইসলাম সোমবার রাতে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন। তাঁকে নিয়ে প্রাইভেটকারে করে যশোরে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। পথে মালীগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে দ্রুতগতির প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে প্রাইভেটকারটি দুমড়েমুচড়ে ট্রাকের ভেতরে ঢুকে যায়।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আবু জাফর জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলেই মা ও দুই সন্তানসহ চালক মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রবাসী আরিফকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
শিবচর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটি জব্দ করা হয়েছে। প্রবাসী যুবককে স্বাগত জানাতে গিয়ে এভাবে পুরো পরিবারের বিলীন হয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments