নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও কুরআন শিক্ষার ক্লাসে হামলার নিন্দা; দোষীদের শাস্তির দাবি
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁওয়ে পৃথক তিনটি ঘটনায় চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং মসজিদে কুরআন শিক্ষার ক্লাসে হামলার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আমীর মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকার এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান।
বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী আড়াইহাজার উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের ব্যবসায়ী সালাউদ্দীনের কাছে স্থানীয় যুবদল নেতা রিপন মিয়া ১২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংগঠনের পক্ষ থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, গত ২ জুন সোনারগাঁও উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ভৌমিকপাড়া এলাকায় একটি মসজিদে সহীহ কুরআন শিক্ষার ক্লাস চলাকালে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি মসজিদের গেট বন্ধ করে শিক্ষার্থী ও মুসল্লিদের অবরুদ্ধ করে এবং হামলা চালায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তারা উদ্ধার হন। এ ঘটনায় কয়েকজন মুসল্লি আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৩ জুন রূপগঞ্জের পূর্বাচল এলাকায় এক কিশোরীকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়।
জামায়াত নেতারা বলেন, মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে জেলার তিনটি উপজেলায় সংঘটিত এসব ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে। তারা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে অনেক ক্ষেত্রে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না।
বিবৃতিতে অবিলম্বে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।




Comments