Image description

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের শ্রীঘর বাজারে কুখ্যাত ‘মনেক ডাকাত’ বাহিনীর সদস্যরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নবীনগরের পশ্চিমাঞ্চলের আতঙ্ক হিসেবে পরিচিত এবং দুই ডজনেরও বেশি মামলার আসামি মনেক ডাকাত। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বড়িকান্দি ইউনিয়নের শ্রীঘর বাজারে মনেক বাহিনীর সদস্য উজ্জ্বল মিয়াকে আটক করে লাঞ্ছিত করে পার্শ্ববর্তী সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের আলোচিত ‘ইলিয়াছ বাহিনী’র লোকজন। এই খবর মনেক বাহিনীর কাছে পৌঁছালে রাত ৯টার দিকে মনেকের সশস্ত্র অনুসারীরা শ্রীঘর বাজারে এসে এলোপাতাড়ি ফাঁকা গুলি ছুড়ে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করে।

এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রীঘর বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, গুলির শব্দ শুনে মুহূর্তের মধ্যে বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। ব্যবসায়ীরা দোকানের শাটার নামিয়ে ভেতরে আতঙ্কিত অবস্থায় সময় পার করেন। সন্ত্রাসীরা চলে যাওয়ার পর সবাই দ্রুত বাড়ি ফিরে যান।

নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিয়াস বসাক জানান, “মনেক ডাকাত একজন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ অপরাধী। সে বারবার জামিনে বের হয়ে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। মূলত আধিপত্য বিস্তার করতেই এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটানো হয়েছে। খবর পাওয়ার পর আমি এবং নবীনগর থানার ওসিসহ পুলিশের একটি দল এলাকায় সারা রাত অভিযান চালিয়েছি। অপরাধীদের কাউকেই এলাকায় পাওয়া যায়নি।”

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদ আলম চৌধুরী বলেন, “এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখন থেকে প্রতি রাতেই ওই এলাকায় বিশেষ পুলিশি টহল ও অভিযান চলবে। জনমনে আতঙ্ক কমানোর জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

উল্লেখ্য, দুই বাহিনীর এই দ্বন্দ্ব ও প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয়রা দ্রুত মনেক ও ইলিয়াছ বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর