Image description

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি ক্রেতা ও গ্রহীতাদের ভোগান্তি যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। দিনের বেলা অনিয়মিত অফিস করে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে সাব-রেজিস্ট্রার মো. অহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তাঁর এই খামখেয়ালি আচরণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা নানা বয়সী মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত ৭টার দিকে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, তখনো পুরোদমে চলছে জমি রেজিস্ট্রির কাজ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দলিল লেখক জানান, সাব-রেজিস্ট্রার সপ্তাহের শেষ দিন আজ বেলা ১১টায় অফিসে আসেন এবং রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত কাজ করেন। 

সরেজমিনে দেখা যায়, রাত ৭টা ১০ মিনিটে সাব-রেজিস্ট্রার অহেদুল ইসলাম তাঁর গোপন কক্ষে চুক্তিভিত্তিক কয়েকটি দলিলে স্বাক্ষর করছেন এবং তাকে সহযোগিতা করছেন অফিসের দুজন এমএলএসএস। সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি তড়িঘড়ি করে এজলাসে চলে যান।

জানা যায়, মো. অহেদুল ইসলাম গত ২৯ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে নাগেশ্বরীতে সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগদান করেন। তিনি প্রতি সপ্তাহের কেবল বুধবার ও বৃহস্পতিবার অফিস করেন। এই দুই দিনেই তিনি নিজের ইচ্ছামতো সময়সূচি নির্ধারণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

দলিল রেজিস্ট্রি করতে আসা রফিকুল ইসলাম, ফজলুল কবির ও মহসিন আলীসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, জমি রেজিস্ট্রির নির্ধারিত সরকারি ফি সম্পর্কে তাঁদের কোনো ধারণা দেওয়া হয় না। দলিল লেখকরা যা দাবি করছেন, বাধ্য হয়ে তাই দিতে হচ্ছে। প্রতিবাদ করলেই হয়রানির শিকার হতে হয়। 

অভিযোগ রয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রার অহেদুল ইসলাম দলিল লেখক সমিতির নেতাদের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক প্রতিটি দলিল বাবদ মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে সাব-রেজিস্ট্রার মো. অহেদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমি কিছু অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এবং বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর