পটুয়াখালীর উপজেলাগুলোতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। বিশেষ করে জেলা শহরের প্রধান হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ এতটাই বেড়েছে যে, ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগীকে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। শয্যা সংকটের কারণে নিরুপায় হয়ে হাসপাতালের এক একটি বেডে একাধিক শিশুকে রেখেই চলছে চিকিৎসাসেবা।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৪৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলাজুড়ে মোট ২৬০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জেলায় এ পর্যন্ত সর্বমোট ১ হাজার ৮৮৩ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড খুলে মোট ৮২টি শয্যা বরাদ্দ রাখা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিত্র সবচেয়ে ভয়াবহ। এখানে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ২৭ জন। হাসপাতালটির আইসোলেশন ওয়ার্ডে বরাদ্দকৃত মাত্র ৪০টি শয্যার বিপরীতে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ২২৩ জন রোগী। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় রোগীদের জায়গা হয়েছে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায়। সবচেয়ে করুণ দৃশ্য দেখা যাচ্ছে ইনডোরে, যেখানে একটি বেডেই ২ থেকে ৩ জন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে হাসপাতাল থেকে নতুন করে ক্রস-সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জানান, সাধারণত হাম শিশুদের বেশি হয়, তবে এবার বড়দের মধ্যেও এই রোগের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে।
পটুয়াখালী সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, তীব্র গরমের কারণে জেলায় ডায়রিয়াসহ অন্যান্য ঋতুপরিবর্তনজনিত রোগের প্রকোপও সমান্তরালে বেড়েছে। ২৫০ শয্যার এই মূল হাসপাতালে বর্তমানে ধারণক্ষমতার তিন গুণেরও বেশি রোগী ভর্তি রয়েছেন।
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ করে রোগীর চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় এবং সেই তুলনায় পর্যাপ্ত শয্যা ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় ডাক্তার ও নার্সরা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments