Image description

জাতীয় বাজেট নিয়ে যখন দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে, তখন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চা বাগানগুলোর সাধারণ শ্রমিকদের কাছে ‘বাজেট’ এক অজানা শব্দ। রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ দলিল সম্পর্কে তাদের নূন্যতম জানাশোনা নেই; বরং নুন আনতে পান্তা ফুরানো প্রাত্যহিক জীবনযুদ্ধই তাদের কাছে প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

উপজেলার নোয়াপাড়া, বৈকুণ্ঠপুর, জগদীশপুর, তেলিয়াপাড়া ও সুরমা চা বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাতীয় বাজেটে তাদের জন্য কী বরাদ্দ থাকে বা এর প্রভাব তাদের জীবনে কীভাবে পড়ে—সে বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ অন্ধকারে।

নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক রমেশ সাঁওতাল বলেন, “বাজেটের কথা টেলিভিশনে শুনি, কিন্তু এর ভেতরে কী থাকে তা জানি না। আমাদের মূল চিন্তা সপ্তাহ শেষে মজুরি পাব কি না আর সন্তানদের মুখে খাবার জুটবে কি না।” একই বাগানের নারী শ্রমিক শ্যামলী মুন্ডা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাজারে সবকিছুর দাম বাড়ে, কিন্তু আমাদের আয় বাড়ে না। বাজেটে আমাদের জন্য কিছু আছে কি না, কেউ কখনো জানায় না।”

তবে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে শ্রমিকদের ধারণা কম থাকলেও স্থানীয় সংসদ সদস্যের (হবিগঞ্জ-৪) ভূমিকা নিয়ে তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। শ্রমিকদের ভাষ্যমতে, এমপি সৈয়দ মো. ফয়সল ইতোমধ্যে চা শ্রমিকদের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন। তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বিভিন্ন বাগানে গভীর নলকূপ স্থাপন এবং মজুরি বন্ধ থাকাকালীন খাদ্য ও অর্থ সহায়তা প্রদান করায় শ্রমিকদের মধ্যে তাকে নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে চা শ্রমিকদের একটি বড় অংশ বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা সংকটের মধ্য দিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। সাম্প্রতিক সময়ে বকেয়া মজুরি ও রেশন নিয়ে বিভিন্ন বাগানে অসন্তোষ ও কর্মবিরতির ঘটনাও ঘটেছে।

শ্রমিক নেতাদের দাবি, জাতীয় বাজেটে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং শিশুদের শিক্ষার জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। তবে বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর মতামতের প্রতিফলন না ঘটায় তারা উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

মাধবপুরের সচেতন মহলের মতে, বাজেট ঘোষণার পর তার প্রভাব ও বরাদ্দ সম্পর্কে শহরকেন্দ্রিক আলোচনার বাইরে গিয়ে চা শ্রমিকদের মতো প্রান্তিক জনপদে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। চা শ্রমিকদের একমাত্র চাওয়া—এমন বাজেট আসুক যা তাদের যাপিত জীবনকে একটু সহজ ও উন্নত করবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর