কাজীপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনে যমুনার তীরে ধস, ভাঙন আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ
সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায় যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ এলাকার দুটি স্থানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) উপজেলার পলাশপুর ঘাট এলাকায় ভাঙনের ফলে তীর সংরক্ষণ বাঁধের বেশ কিছু অংশ নদীগর্ভে ধসে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের মদদে দীর্ঘদিন ধরে নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণেই এই অকাল ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুষ্ক মৌসুমে কাজীপুর ইকোপার্ক এলাকা, পলাশপুর ঘাট, মেঘাই ঘাট ও ঢেকুরিয়া এলাকায় ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে যমুনা নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। এতে নদীর তলদেশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র স্রোত সরাসরি পশ্চিম তীরের সংরক্ষণ এলাকায় আঘাত হানছে, যার ফলে পাথরের ব্লক ও জিও ব্যাগ ধসে পড়ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে পাথরের ব্লক ও বালুভর্তি জিও ব্যাগ দিয়ে নদীতীর রক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু চলতি মৌসুমে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ধস দেখা দেওয়ায় মেঘাই বাঁধ, ফসলি জমি ও আশপাশের বসতবাড়ি এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বর্ষা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই এমন পরিস্থিতিতে নদীপাড়ের হাজার হাজার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কাজীপুর উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ৪০টি স্থানে বালু উত্তোলন চলছে। প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালু ইজারাকৃত এলাকার বাইরে থেকেও তুলে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে কয়েক গুণ।
এ বিষয়ে কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, বাঁধ বা সেতুর এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। ইজারার বাইরে বা নিষিদ্ধ এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভাঙন রোধে ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে প্রতিরক্ষা কাজ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য স্থানীয়দের আশ্বস্ত করেছেন তারা।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments