Image description

কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং খোদ সরকারি এক উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মযজ্ঞে হুমকির মুখে পড়েছে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শতাধিক ভূমিহীন পরিবারের জীবন। নদী সচল করার মহাপরিকল্পনা এখন রূপ নিয়েছে অসহায় মানুষের আর্তনাদে। নদী খননের স্তূপীকৃত মাটিতে চাপা পড়ছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর, যার ফলে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন অনেক বাসিন্দা।

মানবিক বিপর্যয়ের এই চিত্র ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর, কাঁঠালতলা এবং খর্নিয়া এলাকার সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের। সরেজমিনে দেখা গেছে, বুড়িভদ্রা নদী খননের মাটি যত্রতত্র ফেলার কারণে ঘরগুলোর ওপর মাটির পাহাড় তৈরি হয়েছে। মাটির প্রচণ্ড চাপে ঘরের দেয়াল ও জানালা ভেঙে ভেতরে কাদা ঢুকে গেছে, মেঝেতে দেখা দিয়েছে বড় ফাটল। ঘর ধসে পড়ার আতঙ্কে বাসিন্দারা তাদের যৎসামান্য আসবাবপত্র নিয়ে খোলা আকাশের নিচে প্রহর গুনছেন।

কাঁঠালতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা রহিমা বেগম (৬৫) অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, “নদী ভাঙনে সব হারাইয়া এইখানে মাথা গোঁজার ঠাঁই পাইছিলাম। এখন নদীর কাদা মাটি ঘরের ওপর ফেলছে। দেয়াল চড়চড় করে ফাটতেছে। রাইতে ঘুমাতে পারি না, মনে হয় এই বুঝি মাটি চাপা পড়ে মরে গেলাম।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আপার ভদ্রাসহ পাঁচটি নদী পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সেনাবাহিনী। গত সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের মাধ্যমে এই কাজ শুরু হয়। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে মাটি রাখার ফলে কাঁঠালতলা ও খর্নিয়া এলাকার ৫১টি পরিবার এবং চুকনগরের ৮০টি পরিবার চরম বিপাকে পড়েছে। খননকাজের ফলে এই প্রকল্পগুলোর অধিকাংশ টয়লেট ভেঙে গেছে এবং তিনটি টিউবওয়েলের মধ্যে দুটিই অকেজো হয়ে পড়েছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “নদী খননের মাটি ঘরগুলোতে উঠে যাওয়ার বিষয়টি আমি জানি। এটি যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হচ্ছে। আমি পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেছি, তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।”

খনন প্রকল্পের ইনচার্জ লেফটেন্যান্ট কর্নেল মামুনুর রশিদ জানান, নিলামে বিক্রয়কৃত মাটি ঠিকাদারের মাধ্যমে দ্রুত সরিয়ে ফেলার কথা ছিল এবং এটি তদারকির দায়িত্ব ছিল স্থানীয় প্রশাসনের। প্রশাসনের ধীরগতির কারণে মাটি জমে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, বিষয়টি অবগত হওয়ার পর ইতিমধ্যে মাটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের মাধ্যমে সমাধান করা হচ্ছে।

এদিকে আশ্রয়হীন মানুষগুলোর দাবি, দ্রুত তাদের ঘরগুলো সংস্কার করে বসবাসের উপযোগী করা হোক এবং সুপেয় পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা পুনরায় সচল করা হোক।

মানবকণ্ঠ/ডিআর