Image description

নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি জরাজীর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী রক্ষা পেলেও দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী সামান্য আহত হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সিলগালা করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়ার কয়া নং-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন বিদ্যালয়টির একটি পুরনো একতলা ভবনে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠদান চলে। ঘটনার সময় দ্বিতীয় শ্রেণিতে বাংলা ক্লাস চলছিল। সেখানে ৩০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। পাঠদান করছিলেন সহকারী শিক্ষক নাজমুন নাহার। ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ ছাদের বিভিন্ন অংশ থেকে পলেস্তারা খসে পড়তে শুরু করলে ছাত্র-ছাত্রীরা ভয়ে চিৎকার শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শিক্ষক ও কর্মচারীরা দ্রুত শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। এ সময় মিফতাহুল জান্নাত তাকওয়া নামে এক শিক্ষার্থী সামান্য আঘাত পায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটির ছাদের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল ধরেছে এবং অনেক জায়গায় পলেস্তারা আগে থেকেই খসে ছিল। এমনকি পিলারেও ভাঙনের চিহ্ন স্পষ্ট। প্রধান শিক্ষক নাদিরা আক্তার বানু জানান, ২০২৪ সালের ৫ মার্চ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি ভবনটির জরাজীর্ণ অবস্থার কথা জানিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী উল্লেখ করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল, কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার নির্দেশে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসান বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। পরে উপজেলা প্রকৌশলীর পরামর্শক্রমে ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে তালাবদ্ধ করা হয়।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ভবনটি সিলগালা করা হয়েছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ বা বিকল্প ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল অবিলম্বে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান বিঘ্নিত না হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণঘাতী ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়।

মানবকণ্ঠ/ডিআর