রামগঞ্জে স্কুলছাত্রের মৃত্যুর বিচার দাবিতে ৩ দিনেও থামেনি বিক্ষোভ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফরিদ আহমেদ ভুঁইয়া একাডেমির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে টানা তিন দিন ধরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সহপাঠী ও এলাকাবাসীর টানা বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধনে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে রামগঞ্জ শহর।
গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে প্রতিষ্ঠানের ‘আব্দুর রহমান হল’-এর বারান্দা থেকে মেহেদী হাসানকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে চাটখিল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সহপাঠীদের অভিযোগ, একটি মোবাইল ফোন চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সোমবার রাতে এইচএসসি ব্যাচের কয়েকজন বড় ভাই মেহেদীসহ কয়েকজনকে ব্যাপক মারধর ও মানসিক নির্যাতন করে। মেহেদী এ বিষয়ে অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো প্রতিকার পায়নি, বরং বড় ভাইদের পাল্টা হুমকিতে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।
নিহত মেহেদীর মা শারমিন আক্তার বুকফাটা আর্তনাদ নিয়ে বলেন, “আমার ছেলেকে দুদিন ধরে নির্যাতন করা হয়েছে, অথচ স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের কিছুই জানায়নি। এমনকি মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অধ্যক্ষের কাছে গাড়ি চাইলেও তিনি তা দিতে অস্বীকার করেন।” নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড অথবা আত্মহত্যার প্ররোচনা।
মঙ্গলবার রাতে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা একাডেমির প্রধান ফটক ও অভ্যর্থনা কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিতে হয়। পরদিন বুধবার মরদেহ নিয়ে থানার সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন স্বজনরা। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল থেকে রামগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকশ শিক্ষার্থী শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে।
রামগঞ্জ থানার পুলিশ প্রশাসন শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে গিয়ে জানায়, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশের আশ্বাসে দুপুর নাগাদ শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে দিলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। তবে পুরো এলাকায় এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments