Image description

গাইবান্ধা শহরকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে নির্মিত ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ শহররক্ষা বাঁধটি এখন নিজেই অস্তিত্ব সংকটে। বর্ষা আসার আগেই বাঁধের অন্তত ৫০টি স্থানে বড় বড় গর্ত ও ধস সৃষ্টি হওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ঘাঘট নদ পাড়ের বাসিন্দারা। রক্ষাকবচ হিসেবে নির্মিত এই বাঁধটিই এখন শহরের জন্য ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, ২০১৯ সালে নির্মিত এই বাঁধটির সংস্কারের অভাবে করুণ দশা। ২০১৯ সালে ভয়াবহ বন্যার পর শহরকে বাঁচাতে নতুন ব্রিজ থেকে পূর্ব কোমরনই কুঠিপাড়া পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই বাঁধ নির্মাণ করেছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে অভিযোগ উঠেছে, নির্মাণের শুরু থেকেই বাঁধটিতে নিম্নমানের কাজ হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই মাটি সরে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা এলে বাঁধে ভাঙন ধরে আর শুকনো মৌসুমে নামমাত্র মেরামত করা হয়। এই ‘ভাঙা-গড়ার চক্রে’ প্রতি বছর সরকারের বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ হলেও বাঁধের অবস্থার কোনো উন্নতি হচ্ছে না। বর্তমানে বাঁধের প্রায় অর্ধশতাধিক স্থানে ধস নামায় এলাকাবাসীর আশঙ্কা, নদের পানির উচ্চতা সামান্য বাড়লেই এই গর্তগুলো দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে পুরো শহর তলিয়ে যেতে পারে।

ভুক্তভোগীরা জানান, তারা প্রতি বছর দায়সারা সংস্কার নয়, বরং একটি টেকসই ও স্থায়ী সমাধান চান। ঘাঘট নদ যখন ফুলে ওঠে, তখন এই জীর্ণ বাঁধের ওপর ভরসা রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

তবে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ অস্বীকার করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাইবান্ধা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্রুত এসব স্থানে সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

শহরবাসী বলছেন, প্রতি বছরের একই আশ্বাস তাদের আর আশ্বস্ত করতে পারছে না। ২০১৯ সালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি এখনো তাদের তাড়া করে বেড়ায়। তাই এবার বর্ষার তীব্রতা বাড়ার আগেই বাঁধটির গুণগত ও দীর্ঘস্থায়ী সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন গাইবান্ধাবাসী।

মানবকণ্ঠ/ডিআর