১০ বছরে ৩ ঠিকাদার ৩ গুণ ব্যয়, তবুও শেষ হয়নি গোলাম মাওলা সেতুর কাজ
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে। কিন্তু ঠিকাদারদের গাফিলতি, কাজ ফেলে চলে যাওয়া আর আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতায় ১০ বছরেও শেষ হয়নি শরীয়তপুরের নড়িয়া-জাজিরা-ঢাকা সড়কের কীর্তিনাশা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ‘ভাষাসৈনিক গোলাম মাওলা সেতু’। উন্নয়নের এই স্বপ্ন এখন দুই পাড়ের লাখো মানুষের কাছে চরম ভোগান্তির প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ১৪ কোটি টাকা থেকে বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৯ কোটি টাকায়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রথম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাভানা কনস্ট্রাকশন কিছু কাজ করে প্রকল্প ছেড়ে চলে যায়। এরপর দ্বিতীয় দফায় কোহিনুর এন্টারপ্রাইজকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তারা নির্ধারিত সময়ে অর্ধেক কাজও শেষ করতে পারেনি। বর্তমানে তৃতীয়বারের মতো নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে।
দুই দফা ঠিকাদার পরিবর্তনের ফলে প্রকল্পের ব্যয় প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। ১৪ কোটির প্রকল্প এখন ৩৯ কোটি ২ লাখ টাকায় ঠেকেছে। অর্থাৎ জনগণের করের অতিরিক্ত ২৫ কোটি টাকা ব্যয় হলেও সেতুটি এখনো চলাচলের উপযোগী হয়নি। তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ঠিকাদারকে ৩ কোটি ৫০ লাখ এবং দ্বিতীয় ঠিকাদারকে ৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে।
সেতুটির নির্মাণকাজ চলাকালীন ২০২৩ সালে পুরোনো সেতুটি ভেঙে ফেলায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বর্তমানে খেয়া পারাপারের একমাত্র ভরসা তিনটি ট্রলার। প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ট্রলার পারাপারে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটছে এবং মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নিতে দেরি হওয়ায় প্রাণহানির শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে অনেকে ১৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে পদ্মা সেতু হয়ে যাতায়াত করছেন, যাতে সময় ও অর্থ—উভয়ই অপচয় হচ্ছে।
এলজিইডি শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী রাফেউল ইসলাম বলেন, "প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ঠিকাদাররা কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও আর্থিক জরিমানার প্রক্রিয়া চলছে। অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে ২১ কোটি ২৫ লাখ টাকায় নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শেষ করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
তবে এলাকাবাসীর দাবি শুধু আশ্বাস নয়, বরং দ্রুত দৃশ্যমান কাজের সমাপ্তি। কেন বারবার ঠিকাদার পরিবর্তন হলো এবং জনগণের অর্থের কেন এমন অপচয় হলো, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments