Image description

ভোলার উপকূলীয় উপজেলা চরফ্যাশনের প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের সরকারি চিকিৎসাসেবার প্রধান আশ্রয়স্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে দীর্ঘদিনের চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ সংকটে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসাসেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে। ৪২ জন অনুমোদিত চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৬ জন। এছাড়া ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের (কনসালট্যান্ট) স্থলে আছেন মাত্র ২ জন। ফলে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসাসেবা না পেয়ে চরম ভোগান্তি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ সারি। শিশু, কার্ডিওলজি, মেডিসিন, গাইনি ও সার্জারির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় অধিকাংশ রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল বা ঢাকায় রেফার করা হচ্ছে। ইনডোর বা ওয়ার্ডগুলোতে শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। এমনকি চারতলা এই হাসপাতালে পর্যাপ্ত ট্রলি ও স্ট্রেচার না থাকায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের স্বজনদের কাঁধে করে ওপরের তলায় বহন করতে হচ্ছে।

হাসপাতালটিতে চিকিৎসার পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানিরও তীব্র সংকট বিরাজমান। দুটি নলকূপ দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় রোগীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। এছাড়া প্যাথলজি ও এক্স-রে বিভাগে আধুনিক সরঞ্জামের অভাব ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় রোগ নির্ণয়ের জন্য রোগীদের বাইরের বেসরকারি ক্লিনিকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এই সুযোগে হাসপাতালে সক্রিয় দালাল চক্র রোগীদের ফুসলিয়ে বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতালে ভর্তি এক শিশুর বাবা সবুজ খান আক্ষেপ করে বলেন, “পাঁচ দিন ধরে শিশু বিশেষজ্ঞের অপেক্ষায় আছি। ডাক্তার না থাকায় এখন বাধ্য হয়ে ধার-দেনা করে ছেলেকে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছি।” সমাজসেবক মিজান মুনসী জানান, বিশেষ করে শিশুদের জটিল সমস্যায় নদীপথ পাড়ি দিয়ে দূরে যাওয়ার সময় অনেক ক্ষেত্রে পথেই রোগীর মৃত্যু হয়।

রাইটস ফর কোস্টাল পিপল (আরসিপি)-এর চেয়ারম্যান রেদওয়ানুল হক বলেন, “উপকূলের বিশাল এই জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা এভাবে অবহেলিত থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিয়ে এই মানবিক সংকট দূর করা প্রয়োজন।”

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাকলুকুর রহমান জনবল সংকটের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসক নিয়ে এই বিশাল চাপ সামলানো আমাদের জন্য খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন বসাক জানান, জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এই অচলাবস্থা দূর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর