Image description

টানা সাড়ে আট ঘণ্টার রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ময়মনসিংহ নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ও নিচু এলাকার কয়েক হাজার বসতবাড়ি। এতে জনজীবন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। ড্রেনেজ ব্যবস্থার বিপর্যয় আর অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে প্রতি বর্ষাতেই একই চিত্র বারবার ফিরে আসছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি চলতি বছরে জেলায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।

বুধবার (০৮ জুলাই) সরেজমিন দেখা যায়, নগরীর সানকিপাড়া, আকুয়া, গোলকিবাড়ী, বলাশপুর, চরপাড়া, খাগডহর, গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজার, জেলা স্কুল মোড় ও কেওয়াটখালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো হাঁটু থেকে কোমর সমান পানির নিচে। ড্রেন উপচে নোংরা পানি রাস্তায় মিশে যাওয়ায় অনেক স্থানে কৃত্রিম নদীর সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্কুল-কলেজ ও অফিসগামী মানুষ এবং রোগীদের পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। বিশেষ করে চরপাড়া মেডিকেল এলাকায় হাসপাতালগামী অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহনগুলো দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ছে।

চরপাড়া মোড়ে ভুক্তভোগী সাদ্দাম হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে কয়েকশো মিটার রাস্তা পার হতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। এমনকি হাসপাতালেও পানি ঢুকে পড়ায় রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।"

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, শহরের খালগুলো দখল হয়ে যাওয়া এবং ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার না করাই এই জলাবদ্ধতার মূল কারণ। সানকিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, "ড্রেনের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নিয়মিত ট্যাক্স দিলেও আমরা নূন্যতম নাগরিক সুবিধা পাচ্ছি না।"

সূত্র জানায়, জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০২১ থেকে ২০২৫ অর্থবছর মেয়াদে ৬২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩২২ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও প্রকল্পের মাত্র ৫৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি ইয়াজদানী কোরাইশী কাজল বলেন, "পরিকল্পনাহীন ড্রেন নির্মাণের ফলে নগরবাসী সুফল পাচ্ছে না। এর জন্য প্রয়োজন টেকসই ও সমন্বিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা।"

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান সরকার বলেন, "অস্বাভাবিক বৃষ্টির কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতা হয়েছে, তবে পানি নামার প্রক্রিয়া চলমান। মূলত বহুতল ভবনের মালিকদের ময়লা-আবর্জনা ড্রেনে ফেলার কারণে পানি চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।"

নগরবিদরা মনে করছেন, কেবল অস্থায়ী উদ্যোগ নয়, বরং খাল পুনরুদ্ধার, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত না করলে ময়মনসিংহবাসীর এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে না।

মানবকণ্ঠ/ডিআর