দুর্গম বাঘাইছড়িতে দুর্যোগ মোকাবিলায় অদম্য দুই নারী কর্মকর্তা
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়া মানুষের পাশে ছায়া হয়ে দাঁড়িয়েছেন দুই অদম্য নারী কর্মকর্তা। তারা হলেন—উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সুপ্তশী সাহা। দুর্গম পাহাড়ের প্রতিকূলতা জয় করে দুর্যোগকবলিত মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ত্রাণ ও সেবা পৌঁছে দিতে তাদের নিরলস পথচলা এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমান দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই দুই কর্মকর্তা দিন-রাত এক করে দুর্গত এলাকাগুলোতে ছুটে বেড়াচ্ছেন। কখনো পাহাড় ধস এলাকায় গিয়ে লোকজনের সাথে কাজ করছেন, আবার কখনো আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিতদের মাঝে নিজে দাঁড়িয়ে খাবার বিতরণ করছেন। গত বছর রাঙ্গামাটির সাজেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সময়ও এই দুই কর্মকর্তার অক্লান্ত পরিশ্রমে দ্রুত সহায়তা পৌঁছেছিল দুর্গতদের কাছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে যেখানে যাতায়াত অত্যন্ত কষ্টসাধ্য, সেখানে এই দুই নারী কর্মকর্তার আন্তরিকতা প্রশংসনীয়। স্থানীয় সাংবাদিক ওমর ফারুক সুমন বলেন, "ইউএনও আমেনা মারজান একজন অত্যন্ত বিনয়ী ও কর্মতৎপর কর্মকর্তা। অন্যদিকে পিআইও সুপ্তশী সাহার কাজও তুলনাহীন। এক কথায় তারা দুজনেই অদম্য।"
উপজেলার দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ে পিআইও সুপ্তশী সাহা জানান, বাঘাইছড়িতে বর্তমানে বেশ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ৫ শতাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমরা চেষ্টা করছি দুর্গম এলাকার প্রতিটি মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে। ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। আমাদের ইউএনও মহোদয় প্রতিটি এলাকা নিজে তদারকি করছেন। মানুষ যাতে কোনো ভোগান্তিতে না পড়ে, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।"
পাহাড় ও হ্রদবেষ্টিত এই জনপদের প্রতিটি দুর্যোগে নিজেদের সীমাবদ্ধতা ছাপিয়ে সাধারণ মানুষের ভরসা হয়ে উঠেছেন এই দুই সরকারি কর্মকর্তা। তাদের এই মানবিক ও অদম্য কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মাঝে সরকারের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments