Image description

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে এক সন্তানের জননী এক হিন্দু নারীকে (১৮) অপহরণের পর তিন দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের প্রভাবশালী রফিকুল ইসলাম ওরফে ড্রেজার রফিকের ছেলে ইমন মিয়ার (২৪) বিরুদ্ধে এই লোমহর্ষক ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী নারীর স্বামী একজন প্রবাসী এবং তাদের ২ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে নবীনগর থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন। তবে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘ধর্ষণ বনাম পরকীয়া’ নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক ও আলোচনার ঝড়।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুলাই সকালে ওই নারী পার্শ্ববর্তী মাঝিয়ারা বাজারে গিয়ে আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। এ ঘটনায় তার বাবা নবীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের তিন দিন পর শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নবীনগর সদরের সমবায় মার্কেট সংলগ্ন একটি ভবনের চারতলা থেকে বিধ্বস্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্বজনরা।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, গত ৮ জুলাই সকালে জীবনগঞ্জ বাজার থেকে শাহপুর ফেরার পথে ইমন মিয়া তাকে জোরপূর্বক সিএনজিতে তুলে নাকে রুমাল দিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে। এরপর তাকে নবীনগর সদরের একটি ভবনের চারতলায় আটকে রাখা হয়। সেখানে টানা তিন দিন তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এই তিন দিন তাকে খাবার দেওয়া হলেও তিনি শুধু জল খেয়ে বেঁচে ছিলেন।

স্থানীয় সমাজকর্মী আরিফুর রহমান আরিফ জানান, ইমনের দুই বন্ধুর সহযোগিতায় ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে এবং তাকে থানায় নিয়ে মামলা রুজু করে। একটি সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় কিছু যুবক ইমন ও ওই নারীকে আটক করলেও পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) উপস্থিতিতে রহস্যজনকভাবে ইমন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রতনপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা (ভিপি মারুফ) তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, "ফেসবুকে একটি পক্ষ একে অপহরণ ও ধর্ষণ বললেও অন্য পক্ষ 'পরকীয়া' দাবি করছে। বিষয়টির একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।"

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম চৌধুরী মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "ভুক্তভোগী নারী অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর