ভৌগোলিক সীমানা কিংবা কাঁটাতারের বাধা—কোনো কিছুই যে প্রেমের টানের কাছে বাধা হতে পারে না, তার আরও একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হলো শরীয়তপুরের জাজিরায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা দীর্ঘ চার বছরের প্রেমের সম্পর্ককে সার্থক করতে পাকিস্তান থেকে জাজিরায় ছুটে এসেছেন মোজাম্মেল হোসাইন (২৬) নামে এক যুবক। তার এই আসার একমাত্র উদ্দেশ্য জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামের তরুণী তানজিলা (১৯)।
ইতোমধ্যেই শরীয়াহ মোতাবেক তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে এই নবদম্পতি পাকিস্তানের লাহোরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এই 'ক্রস-বর্ডার' বিয়ে নিয়ে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হলেও স্থানীয়দের মনে দানা বেঁধেছে পাচার চক্রের শঙ্কা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে ফেসবুকে লাহোরের বাসিন্দা মোজাম্মেল হোসাইনের সাথে মজিবর শিকদারের মেয়ে তানজিলার পরিচয় হয়। নিয়মিত ভিডিও কল ও চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে তাদের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের টানেই গত ১১ জুলাই লাহোর থেকে সরাসরি জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নের রহিম উদ্দিন মালাই মৃধাকান্দি গ্রামের স্টাপল্টন শিকদার কান্দি এলাকায় প্রেমিকার বাড়িতে হাজির হন মোজাম্মেল।
মেয়ের মা আসমা আক্তার এই বিয়ে নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘ছেলের পরিবারের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। মেয়েকে দূরে বিয়ে দিতে খারাপ লাগলেও আমাদের মনে কোনো ভয় বা শঙ্কা নেই।’
তবে পরিবারের স্বস্তির বিপরীতে স্থানীয় প্রতিবেশী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তানজিলার ফুফু রাত্রি আক্তার এবং চাচা তোফাজ্জল শিকদার জানান, প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিদেশ পাচারের অনেক ঘটনা আজকাল শোনা যাচ্ছে। ছেলের পরিবারের কোনো অভিভাবক ছাড়াই হুট করে একটি মেয়েকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। স্থানীয়রা এ বিষয়ে প্রশাসনের কড়া নজরদারি দাবি করেছেন।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ জানান, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নই। তবে দ্রুত খোঁজ-খবর নিয়ে তাঁদের পাসপোর্ট, ভিসাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments