Image description

টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর আকাশমণি গাছের চারা রোপণের অভিযোগ উঠেছে। হতেয়া রেঞ্জের কালমেঘা বিট অফিসের আওতাধীন বিস্তীর্ণ এলাকায় গত বছর ও চলতি বছর মিলিয়ে বিপুল পরিমাণ এসব চারা লাগানো হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

উল্লেখ্য, পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব বিবেচনায় ২০২৫ সালে সরকারের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি গাছের নতুন চারা উৎপাদন, বিক্রি ও রোপণের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরিবেশবিদদের মতে, আকাশমণি গাছ অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি শোষণ করে মাটির আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে স্থানীয় প্রজাতির গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কালমেঘা বিট এলাকার বেশ কিছু স্থানে সারিবদ্ধভাবে আকাশমণি চারা বেড়ে উঠছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, যেখানে সরকার এসব গাছ নিষিদ্ধ করেছে, সেখানে বন বিভাগের নাকের ডগায় কীভাবে এত চারা লাগানো হলো তা রহস্যজনক।

এ বিষয়ে কালমেঘা বিট অফিসার জাকিরুল ইসলাম চারা রোপণের বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেন, "এই গাছগুলো পরিকল্পিতভাবে লাগানো হয়নি, বরং এগুলো প্রাকৃতিকভাবে গজিয়েছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে দ্রুত এসব গাছ কেটে ফেলা হবে।"

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে বন বিভাগের জমিতে এসব নিষিদ্ধ গাছ রোপণের ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিদেশি প্রজাতির পরিবর্তে দেশীয় ও ফলজ গাছ রোপণে গুরুত্ব দেওয়ার এবং এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মানবকণ্ঠ/ডিআর