বেলা ১২টায়ও দপ্তরে নেই এজিএম-ডিজিএম, সাংবাদিককে ছবি তুলতে বাধা
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল বা ‘ভূতুড়ে বিল’-এর অভিযোগে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিতে গিয়ে নির্ধারিত অফিস সময়েও দপ্তরে পাওয়া যায়নি শীর্ষ কর্মকর্তাদের। উল্টো তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন সংবাদকর্মী।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে পাথরঘাটা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাহকদের অসংখ্য অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দপ্তরে অনুপস্থিত রয়েছেন এজিএম (সহকারী জেনারেল ম্যানেজার) ও ডিজিএম (ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার)। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও তাদের কাউকে অফিসে পাওয়া যায়নি।
এ সময় অফিসের এই চিত্র ক্যামেরাবন্দি করতে গেলে বাধার সৃষ্টি করেন দপ্তরের দুই কর্মচারী। তারা ছবি তোলার কারণ জানতে চান এবং ছবি তোলার জন্য আগাম অনুমতির অজুহাত তুলে সাংবাদিককে হেনস্তা করার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় উপস্থিত সংবাদকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "অফিসে কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি ও অব্যবস্থাপনার তথ্য সংগ্রহ করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। যেখানে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়া মানে জবাবদিহিতাকে এড়িয়ে চলা।"
স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, চলতি মাসে অনেকের বিদ্যুৎ বিল আগের তুলনায় অস্বাভাবিক হারে বেশি এসেছে। বিল সংশোধনের জন্য একাধিকবার অফিসে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা মেলেনি। এতে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে। একদিকে ‘ভূতুড়ে বিল’ নিয়ে জনভোগান্তি, অন্যদিকে কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি এবং তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়ার ঘটনায় বিদ্যুৎ অফিসের সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে অনুপস্থিত এজিএম ও ডিজিএম-এর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই ‘ভূতুড়ে বিল’ সমস্যা সমাধান এবং দায়িত্বে অবহেলাকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments