Image description

অনলাইনে টাকার বিনিময়ে বিক্রি হচ্ছে মানুষের ব্যক্তিগত ও গোপন তথ্য। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), কল ডিটেলস রেকর্ড (সিডিআর), মোবাইল ফোনের অবস্থান, এসএমএসের তথ্য, টিআইএন, পাসপোর্ট এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের লেনদেনের তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে অর্থের বিনিময়ে।

তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে এমন অন্তত ১০টি সক্রিয় ওয়েবসাইটের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির ব্যবস্থা রয়েছে। একই সঙ্গে ফেসবুক, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপেও এসব তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে।

এক মাসের অনুসন্ধানে ফেসবুকে এমন ৬৭৫টি পোস্ট পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৬০৫টি পোস্টে সরাসরি ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির প্রস্তাব ছিল।

মাত্র ৫০০ টাকায় মিলছে এনআইডির তথ্য

ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাত্র ৫০০ টাকার বিনিময়ে একটি মোবাইল নম্বরের গ্রাহকের এনআইডির কপি পাওয়া গেছে।

গবেষকেরা একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে ক্রেতা সেজে যোগাযোগ করেন। একটি মোবাইল নম্বর ও ৫০০ টাকা দেওয়ার মাত্র ১৭ মিনিটের মধ্যে ওই ব্যক্তির এনআইডি কার্ডের পিডিএফ পাঠানো হয়।

পিডিএফে থাকা নাম, ছবি ও জন্মতারিখসহ বিভিন্ন তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে মিলে যায়। এমনকি সম্প্রতি এনআইডিতে করা সংশোধিত তথ্যও সেখানে পাওয়া যায়।

শুধু এনআইডি নয়, জানা যাচ্ছে অবস্থান ও কলের তথ্যও

অনলাইনে শুধু পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যই নয়, মানুষের যোগাযোগ ও চলাফেরার তথ্যও বিক্রি হচ্ছে।

একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন, মোবাইলের অবস্থান, কল ডিটেলস রেকর্ড (সিডিআর), এসএমএসের তালিকা, আইএমইআই, টিআইএন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, পাসপোর্ট এবং ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ বিক্রির বিজ্ঞাপন পাওয়া গেছে।

একটি মোবাইল নম্বরের তিন মাসের কল রেকর্ড চাওয়ার পর ১ হাজার ৫০ টাকা পরিশোধ করে আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই ফাইল পাওয়া যায়। পরে সেটি যাচাই করে দেখা যায়, সেখানে থাকা সাম্প্রতিক কলের নম্বর, সময় ও কলের ধরন প্রকৃত কল-ইতিহাসের সঙ্গে মিলে গেছে।

অন্য একটি ওয়েবসাইটে মোবাইল নম্বরের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে টাকা দেওয়ার মাত্র ১৬ মিনিটের মধ্যে ওই নম্বরের সর্বশেষ সক্রিয় সময়, মোবাইল টাওয়ারভিত্তিক অবস্থান ও ঠিকানা দেওয়া হয়।

একাধিক মাধ্যমে চলছে তথ্যের ব্যবসা

ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে ফেসবুক, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন পোস্ট ও গ্রুপের মাধ্যমে পরিচালিত ১০টি সক্রিয় ওয়েবসাইটের সন্ধান পাওয়া গেছে।

এসব ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন সেবার জন্য আলাদা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অনেক বিক্রেতা নিজেরা তথ্য সংগ্রহ করেন না। অন্য জায়গা থেকে তথ্য কিনে পরে বেশি দামে বিক্রি করেন।

যেমন, ৮০০ টাকায় কোনো মোবাইল গ্রাহকের কল তালিকা সংগ্রহ করে তা ৯০০ টাকায় বিক্রি করার তথ্যও পাওয়া গেছে।

অপব্যবহারের আশঙ্কা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি হলে মানুষের গোপনীয়তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সিডিআর থেকে একজন ব্যক্তি কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, কখন কথা বলেছেন এবং কতক্ষণ কথা বলেছেন—এসব তথ্য জানা সম্ভব। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে একজন ব্যক্তির যোগাযোগের নেটওয়ার্ক ও চলাফেরার একটি ধারণাও পাওয়া যেতে পারে।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, এসব তথ্য নজরদারি, হয়রানি ও প্রতারণার মতো কাজে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এসএস