Image description

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে নিখোঁজ হওয়ার পর ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে হত্যা, ধর্ষণের পর হত্যা, শারীরিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন ঘটনায় ১৫৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বছরের প্রথম সাত মাসে নিখোঁজ হওয়া ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর মধ্যে এখনো ২ হাজার ৩৮ জন নিখোঁজ রয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ও পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে শিশুদের নিরাপত্তার এমন চিত্র উঠে এসেছে। রোববার এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আসক।

কুমিল্লায় নিখোঁজ থাকা ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর বিবৃতিটি দেয় সংগঠনটি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য সংগ্রহ করে নিখোঁজের পর ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আসক।

সংগঠনটি বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিখোঁজ হওয়ার পর শিশুদের মরদেহ উদ্ধার, ধর্ষণের পর হত্যা ও নির্যাতনের মতো ঘটনা শিশুদের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত অন্তত ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হলেও ২ হাজার ৩৮ শিশু এখনো নিখোঁজ। তবে নিখোঁজের তথ্য পরবর্তী সময়ে হালনাগাদ না হওয়ায় এ পরিসংখ্যান নিয়ে বিভ্রান্তির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

শিশুদের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব উল্লেখ করে আসক বলেছে, এ দায়িত্ব পালনে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নিখোঁজ শিশুদের বিষয়ে সমন্বিত ও নিয়মিত হালনাগাদ জাতীয় তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি।

আসকের নির্বাহী পরিচালক শাহীনুর রহমান বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর কোনো শিশুর মরদেহ উদ্ধার হলে ঘটনাটিকে শুধু বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। শিশু কীভাবে নিখোঁজ হলো, তাকে উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছিল, কোনো অবহেলা বা সমন্বয়হীনতা ছিল কি না এবং অপরাধের সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের আওতায় আনতে হবে।

শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ, সমন্বিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি বলেও মনে করে আসক।

এসএস