Image description

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংকটের কারণে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে, যা নতুন সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার কমানোর উদ্যোগকে জটিল করে তুলছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আমদানি করা তেল ও এলএনজির (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল বাংলাদেশে গত ফেব্রুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.১৩ শতাংশ, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। মূলত খাদ্যপণ্যের দাম বাড়াই এর প্রধান কারণ হলেও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের ব্যয়ও বেড়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সানেম-এর নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান জানান, মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে তেল ও এলএনজির দাম দ্রুত বেড়ে যাবে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন, বিদ্যুৎ ও উৎপাদন খরচ বাড়বে, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়বে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং খাদ্যবাজারের অস্থিরতা এই মূল্যস্ফীতিকে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে রূপ দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজছে। এরই মধ্যে ভারত ও চীনের কাছে ডিজেল আমদানির অনুরোধ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) চীনের কোম্পানি ‘ইউনিপেক’ থেকে তিন কার্গো ডিজেল পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ ছাড় (ওয়েইভার) চাওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপও নিয়েছে সরকার।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা প্রবাসী শ্রমিকরা কর্মহীন হলে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গিয়ে অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি হতে পারে। এছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার মান আবারও কমতে শুরু করেছে (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা), যা আমদানি করা কাঁচামাল ও পণ্যের ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ জিয়া হাসান মনে করেন, মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে থাকায় এই মুহূর্তে সুদের হার কমানোর কোনো সুযোগ নেই। মুদ্রানীতি শিথিল করা হলে তা মুদ্রার বিনিময় হারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশ্ববাজারে এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে উচ্চ আমদানি ব্যয় ও ধীর প্রবৃদ্ধির মতো কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

মানবকণ্ঠ/আরআই