Image description

দেশের জ্বালানি সংকট যখন চরমে, তখন তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ‘তৃতীয় পক্ষের ফিজিবিলিটি স্টাডি’ বা প্রাক-সমীক্ষার বাধ্যবাধকতা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, একদল সাবেক আমলা ও প্রভাবশালী মহলের স্বার্থ রক্ষার্থেই এই পদ্ধতিটি বহাল রাখা হয়েছে, যা গ্যাস অনুসন্ধান প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করার পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপচয় ঘটাচ্ছে।

পেট্রোবাংলার বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানদের মতে, একটি নির্দিষ্ট ফিল্ডে সিসমিক সার্ভে করার পরই কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা নিজেই এক ধরণের ফিজিবিলিটি স্টাডি। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান জানান, সব কূপের গভীরতা ও পরিবেশ প্রায় একই রকম হওয়া সত্ত্বেও বারবার তৃতীয় পক্ষ দিয়ে সমীক্ষা করানো অর্থহীন। এটি শুধুমাত্র সময় ও অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, তৃতীয় পক্ষের কনসালটেন্ট যে কাজ করতে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা নেয় এবং সময় নেয় ৬ থেকে ১২ মাস, সেই একই কাজ বাপেক্স বা পেট্রোবাংলার নিজস্ব বিশেষজ্ঞরা মাত্র ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায় এবং ১৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে সক্ষম। অথচ এই দীর্ঘসূত্রিতার কারণে গ্যাস অনুসন্ধানে পিছিয়ে পড়ছে দেশ।

পাবনার মোবারকপুর কূপের উদাহরণ টেনে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কঠোর ‘ডিপিপি’ (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) জটিলতার কারণে অনেক সময় জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় না। মোবারকপুরে কূপের চাপ বাড়লেও রিভাইসড ডিপিপি (আরডিপিপি) অনুমোদনের অপেক্ষায় কয়েক বছর সময় নষ্ট হয়েছে। এছাড়া, জ্বালানি খাতের নিজস্ব অর্থায়ন (জিডিএফ) ব্যবহারের ক্ষেত্রে এখন এনইসি (NEC) অনুমোদন বাধ্যতামূলক করায় প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও ৩ থেকে ৪ মাস অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে।

ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম বলেন, “গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের (জিডিএফ) টাকাটা মূলত ভোক্তাদের। সরকার এটি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে ব্যর্থ হচ্ছে। আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের কারণে এই তহবিলের অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।”

জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও বিশেষ মহলের পকেট ভরার এই ‘সমীক্ষা সংস্কৃতি’ বন্ধ না হলে দেশে চলমান গ্যাস সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া প্রায় অসম্ভব।

মানবকন্ঠ/আরআই